সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে ফের ৬ মাস সময়
আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে আবারও ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলায় নতুন করে সময় বাড়ানোর ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার গতি ও তদন্তের কার্যকারিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।রোববার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হওয়ায় সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। পরে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল।এর আগে গত বছরের ২৩ অক্টোবর একই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সকে ছয় মাস সময় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সে সময় আদালত মন্তব্য করেছিলেন, এটি শেষবারের মতো সময় দেওয়া হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তবে সেই সময়সীমা শেষ হলেও তদন্ত সম্পন্ন হয়নি।মামলাটির দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভুক্তভোগী পরিবার, সাংবাদিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এক যুগের বেশি সময় পার হলেও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ না হওয়া বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে সংশ্লিষ্ট মহল।২০২৪ সালের অক্টোবরে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির তদন্তে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করে গঠিত ওই কমিটিতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার নিচে নয়—এমন একজন পুলিশ প্রতিনিধি, একজন সিআইডি প্রতিনিধি এবং একজন র্যাব প্রতিনিধিকে রাখা হয়। তদন্তে নতুন গতি আনতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন। সে সময় তাদের শিশু সন্তান বাসায় উপস্থিত ছিল। দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি ওঠে। কিন্তু বছরের পর বছর তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন, প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব এবং সময় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় মামলাটি এখনও নিষ্পত্তির মুখ দেখেনি।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচিত মামলাগুলোতে দীর্ঘসূত্রতা শুধু বিচারপ্রার্থীদের হতাশ করে না, রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সাংবাদিক দম্পতি হত্যার মতো বহুল আলোচিত মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও বহুবার দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মতে, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ মামলার নিষ্পত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।নতুন ছয় মাস সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ একাধিকবার সময় বাড়ানোর পরও মামলার অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় জনমনে আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্টদের নজর তদন্তকারী সংস্থার দিকে—এই সময়ের মধ্যে তারা বহুল প্রতীক্ষিত প্রতিবেদন দিতে পারে কি না।#আর