সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড নির্ধারণে সমঝোতার উদ্যোগ
সাংবাদিকদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো ও ওয়েজবোর্ড নির্ধারণে সরকার গণমাধ্যম মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি টেকসই কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে ফটো সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত চ্যালেঞ্জ ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম যদি একটি শিল্পখাত হিসেবে পরিচালিত হয়, তাহলে সেখানে নিয়োগ, কর্মপরিবেশ ও বেতন কাঠামো অবশ্যই আইন ও নীতিমালার আওতায় থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শুধু মালিকদের স্বার্থ নয়, একই সঙ্গে কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সরকার মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে চায়।তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা পেশা বর্তমানে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একটি আধুনিক ডিভাইস এখন ক্যামেরা, টেলিভিশন, রেডিও এবং কম্পিউটারের কাজ একসঙ্গে করতে সক্ষম। এই বাস্তবতায় সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান হালনাগাদ করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।ফটো সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশে ফটোজার্নালিস্টদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ওপর জোর দেন তিনি। ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভবনকে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকে সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। রাজনৈতিক বাস্তবতায় সময়ের সঙ্গে অনেক পরিবর্তন ঘটতে পারে, তাই সাংবাদিকদেরও বাস্তবতা বিবেচনায় সতর্ক ও সচেতন থাকা প্রয়োজন।তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অতীতে সাংবাদিকদের ওপর ঘটে যাওয়া অনিয়ম ও নির্যাতনের ঘটনাগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।সভায় ফটো সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, অধিকার ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা সাংবাদিকদের জন্য বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।#আরএ