ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সরকারি প্রকল্পের ৬০টি গরু ‘নিখোঁজ’, প্রশ্নের মুখে মৎস্য কর্মকর্তা

নড়াইলের লোহাগড়ায় সরকারি একটি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জেলেদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৬০টি গরুর হদিস মিলছে না। সুবিধাভোগীদের তালিকা, বিতরণ প্রক্রিয়া এবং গরুগুলো কারা পেয়েছেন—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগও উঠেছে।জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে “দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নিবন্ধিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জেলেদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬০টি গরু ও গোখাদ্য বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের যাচাই করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এসব গবাদিপশু হস্তান্তরের কথা। কিন্তু বাস্তবে কারা এই গরু পেয়েছেন, কোথায় বিতরণ হয়েছে এবং কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।প্রকল্পের স্বচ্ছতা যাচাই করতে স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সুবিধাভোগীদের তালিকা ও বিতরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চাইলে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিকদের দাবি, তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং কোনো নথি দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন, ৬০টি গরু জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে তার কাছে সুবিধাভোগীদের কোনো তালিকা নেই। তালিকা প্রকল্প অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সাংবাদিকদের তিনি কোনো তালিকা দিতে পারবেন না বলেও জানান।একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছে নিজ দপ্তরের চলমান প্রকল্পের সুবিধাভোগী তালিকা না থাকা এবং তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অন্যদের মধ্যে গরু বিতরণ করা হয়েছে অথবা অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দ আত্মসাৎ করা হয়েছে।স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের নামে যদি বরাদ্দকৃত সম্পদ সঠিকভাবে পৌঁছায় না, তবে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।এ বিষয়ে নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের তালিকা উপজেলা মৎস্য অফিসে সংরক্ষিত থাকার কথা। কেন তালিকা দেওয়া হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তথ্য গোপনের বিষয়টি উদ্বেগজনক। তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি প্রকল্পে পশু, কৃষি উপকরণ বা নগদ সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে তালিকা প্রকাশ, উন্মুক্ত যাচাই এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ বারবার সামনে আসবে।লোহাগড়ার বাসিন্দাদের দাবি, ৬০টি গরু কোথায় গেছে, কারা পেয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা দ্রুত তদন্ত করে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।সরকারের লক্ষ্য যেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, সেখানে প্রকল্পের তথ্য গোপন করার অভিযোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন তদন্তের ফলই বলে দেবে, গরুগুলো সত্যিই বিতরণ হয়েছে নাকি প্রকল্পের আড়ালে অন্য কোনো অনিয়ম ঘটেছে।#আরএ

সরকারি প্রকল্পের ৬০টি গরু ‘নিখোঁজ’, প্রশ্নের মুখে মৎস্য কর্মকর্তা