কয়লা আমদানি বিতর্কে শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিম্নমানের কয়লা আমদানিকে ঘিরে তীব্র জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়াঙ্গা হেমাপালা। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দপ্তরের এক বিবৃতিতে তাদের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে উভয় কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। সকালে তারা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে কয়লা আমদানির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে একটি বিস্তৃত তদন্ত শুরু করা হয়েছে।শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লাকভিজয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নমানের কয়লা ব্যবহারের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জনরোষ তৈরি হয়।তবে পদত্যাগের পর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সাংবাদিকদের বলেন, কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের ক্রয় নির্দেশিকা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রীর সরাসরি সম্পৃক্ততায় কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত কমিটি আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এই তদন্তের লক্ষ্য হলো কয়লা আমদানির পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম প্রতিরোধ করা।প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে ইতোমধ্যে ২০০৯ সাল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য করা সব কয়লা আমদানির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে তিনি স্বীকার করেছিলেন, নিম্নমানের কয়লার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত লাকভিজয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে।চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করে লাকভিজয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই চাহিদা পূরণে বছরে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হয়। তবে সাম্প্রতিক সরবরাহ সংকট ও নিম্নমানের জ্বালানির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় গত মাসে শ্রীলঙ্কা জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করে। তবে এই আমদানিকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে—কেন আগাম পরিকল্পনা না নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে আমদানির প্রয়োজন পড়ল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শ্রীলঙ্কার জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক ত্রুটির দিকটি আবারও সামনে এনেছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা দেশটির জন্য এ ধরনের অনিয়ম নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।