ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পাকিস্তানে ‘র’–সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

পাকিস্তানের আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাকে গুপ্তচরবৃত্তিতে যুক্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি সামনে আসার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এর বরাতে জানা যায়, রাওয়ালাকোট এলাকায় ওই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, তাকে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে ‘র’-এর হয়ে কাজ করানো হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে।আজাদ কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) লিয়াকত আলি মালিক জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি অনলাইনে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে ধীরে ধীরে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রথমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, যা লাহোরভিত্তিক ঠিকানা ব্যবহার করত।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে ওই ব্যক্তিকে সাধারণ তথ্য আদান-প্রদানের মতো ছোট ছোট কাজ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে ধীরে ধীরে সংবেদনশীল কাজে যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন স্থানের জিওট্যাগিং, কো-অর্ডিনেট সংগ্রহ, এবং আজাদ কাশ্মীরসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের সামরিক ও সরকারি স্থাপনার ছবি ও ভিডিও পাঠানো।তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এই নেটওয়ার্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। প্রথমে ভুয়া প্রোফাইলের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিকে প্রলুব্ধ করা হতো। এরপর ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য, চ্যাট, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হতো। পরে সেগুলো ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করে গুপ্তচরবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো।আইজিপি লিয়াকত আলি মালিক দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এই নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “শত্রুপক্ষ সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে রাষ্ট্রবিরোধী কাজে ব্যবহার করছে।”পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের সাইবার-ভিত্তিক গুপ্তচর নেটওয়ার্কের তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ অভিযোগ করেন, সামরিক সংঘাতের পর ভারত দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে প্রক্সি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। অন্যদিকে ভারত সরকার এ ধরনের অভিযোগকে নিয়মিতভাবে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।পূর্বেও এ ধরনের একাধিক ঘটনার দাবি করেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) লাহোর, ফয়সালাবাদ ও বাহাওয়ালপুরে অভিযান চালিয়ে ‘র’-সংশ্লিষ্ট সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের দাবি করে। এছাড়া এর আগে বিভিন্ন সময় সাইবার ফাঁদে ফেলে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে।বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক গুপ্তচরবৃত্তিতে এখন সাইবার প্ল্যাটফর্ম সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, লোকেশন শেয়ারিং এবং ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের প্রবণতা বাড়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।বর্তমান ঘটনাটি সেই প্রবণতারই আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ব্ল্যাকমেইল ও প্রযুক্তিকে একত্রে ব্যবহার করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে।

পাকিস্তানে ‘র’–সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার