জরুরি সেবার যানবাহনে জ্বালানি রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহার
বাংলাদেশ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবা প্রদানকারী যানবাহনের জন্য জ্বালানি তেল বিক্রিতে চলমান রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৬ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ তথ্য জানান।সংসদ অধিবেশনের শুরুতে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী আর্টিকেল ৩৬ অনুযায়ী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ করে জরুরি সেবা খাতে ব্যবহৃত যানবাহনের জ্বালানি সরবরাহে বিদ্যমান রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তার বক্তব্যে তিনি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্তের আহ্বান জানান।এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, সরকার জরুরি সেবা খাতে নিয়োজিত যানবাহনের ওপর থেকে জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা (এমবারগো) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, “দুই দিন আগে আমরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এবং একই দিনেই এর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ এখন থেকে স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন থাকবে।”তিনি আরও জানান, রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহারের ফলে জরুরি সেবার কার্যক্রমে যে সীমাবদ্ধতা ছিল তা দূর হবে এবং মাঠ পর্যায়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ ও বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার কারণে কিছু ক্ষেত্রে রেশনিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছিল। এতে জরুরি সেবা খাতেও কিছুটা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সেবা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার ধারাবাহিকভাবে নীতি পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। জরুরি সেবা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, সংসদে আলোচনায় অংশ নেওয়া সদস্যরা এ সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন। তারা বলেন, জরুরি সেবার যানবাহনের জন্য জ্বালানি সরবরাহ বাধাহীন থাকলে মাঠ পর্যায়ে সেবা প্রদানের গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রেশনিং প্রত্যাহারের ফলে স্বল্পমেয়াদে প্রশাসনিক চাপ কিছুটা বাড়লেও জরুরি সেবার মান উন্নয়নে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করা গেলে সেবা খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর জরুরি সেবা খাতে যানবাহন চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আগের তুলনায় সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।