ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দেশ নিয়ে অহংকার থাকলে শত্রুপক্ষ দাঁড়ায়: রিজভী

জাতীয়তাবাদের শত্রু-মিত্র দুটোই থাকে, আর নিজের দেশ নিয়ে বেশি অহংকার থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শত্রুপক্ষ তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন প্রকৃত অর্থে একজন দেশপ্রেমিক নেতা। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণেই তিনি মহান জাতীয়তাবাদী নেতায় পরিণত হন। কিন্তু সেই দেশপ্রেমই তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী শত্রুপক্ষ তৈরি করেছে।তিনি বলেন, “জাতীয়তাবাদের শত্রু-মিত্র আছে। যদি নিজের দেশ নিয়ে বেশি অহংকার থাকে, স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শত্রুপক্ষ দাঁড়িয়ে যাবে।”বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, জিয়াউর রহমান তার আগের শাসনামলে যেসব নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, সেগুলোর বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জিয়া ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিলেন।ফারাক্কা বাঁধ ইস্যু টেনে রিজভী বলেন, যখন ফারাক্কা বাঁধ চালু করা হয়, তখন শেখ মুজিবুর রহমান সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সে সময় মওলানা ভাসানীর ফারাক্কামুখী আন্দোলনকে জিয়াউর রহমান সমর্থন করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ফারাক্কা ইস্যু আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে জাতিসংঘে যাওয়ার কারণে জিয়াউর রহমান বিভিন্ন মহলের টার্গেটে পরিণত হন।বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে রিজভী বলেন, সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ কখনও টেকসই রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি হতে পারে না। তিনি “তোরা বাঙালি হয়ে যা” ধরনের বক্তব্যকে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।রিজভীর ভাষায়, “ওটা হলো ন্যারো ন্যাশনালিজম।” তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদের মধ্যে উদারতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বহুত্ববাদী চেতনা থাকতে হয়।আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির জাতীয়তাবাদী ধারণায় উদারনৈতিক দিক অনুপস্থিত ছিল। একই সঙ্গে গণতন্ত্রের প্রতিও আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি দুর্বল ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।রাষ্ট্র ও জাতির ধারণা ব্যাখ্যা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিভিন্ন জনগোষ্ঠী যখন মানসিক অনুভূতি, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখনই একটি জাতি গড়ে ওঠে।আলোচনা সভায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং জিয়াউর রহমানের অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা, স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার অবদান তুলে ধরেন।সভায় রিজভীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে তার মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।

দেশ নিয়ে অহংকার থাকলে শত্রুপক্ষ দাঁড়ায়: রিজভী