ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি ঘিরে সংসদ উত্তপ্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ Nahid Islam রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেন, যা সংসদে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনেননি এবং এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্যের আগ্রহও নেই। তবে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তিনি একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও ভূমিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অতীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য। তার ভাষ্যে, সেই সময় তাকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ‘এসাইনমেন্ট’ দেওয়া হয়েছিল—যার মধ্যে ছিল রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিভিন্ন দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগে অবস্থান নির্ধারণ। এসব মন্তব্য সংসদে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিতর্কিত অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। তার মতে, এমন ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি পদে থাকা রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির অপসারণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।আলোচনায় তিনি আরও বলেন, অতীতে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সংবিধানগত ধারাবাহিকতার কারণে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক সংকট আর নেই বলেও মন্তব্য করেন।সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংবিধানের বিভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বিশেষ করে বাহাত্তরের সংবিধান ও একাত্তরের রাজনৈতিক চেতনার ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নমত তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও অতীত ভূমিকার সমালোচনাও উঠে আসে।অন্যদিকে, সরকারি ও বিরোধী পক্ষের একাধিক সংসদ সদস্য এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, সংসদে রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদ নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য অপ্রাসঙ্গিক ও উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে অধিবেশনে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংসদে এ ধরনের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ নিয়ে সরাসরি অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও গভীর করবে।এদিকে সরকারপক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সংসদীয় পরিবেশে বিষয়টি ঘিরে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি ঘিরে সংসদ উত্তপ্ত