ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এক যৌথ মিডিয়া তদন্তে। রুশ স্বাধীন সংবাদমাধ্যম মিডিয়াজোনা এবং বিবিসি রাশিয়া সার্ভিসের যৌথ অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ২ লাখ ১৩ হাজার ৮৫৮ জন রুশ সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে প্রকাশিত আগের তালিকার পর নতুন করে আরও ৫ হাজার ১০৩ জন নিহত সেনার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ এই তথ্য শুধুমাত্র উন্মুক্ত ও যাচাইযোগ্য উৎসের ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়েছে।গবেষকরা জানিয়েছেন, শোকবার্তা, স্বজনদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের বিবৃতির মতো উন্মুক্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি সম্পূর্ণ সরকারি বা সামরিক পরিসংখ্যান নয়, বরং আংশিকভাবে যাচাইকৃত একটি হিসাব।প্রতিবেদনে নিহতদের শ্রেণিবিন্যাসও প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৯ হাজার ৩০০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী, প্রায় ২৪ হাজার কারাগার থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জন মোতায়েনকৃত সেনা রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭ হাজার ৪৩ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট। অন্যদিকে রাশিয়া সরকার এখন পর্যন্ত যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাদের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবি আসছে। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের হিসাব অনুযায়ী, রুশ সেনা নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। তাদের দাবি, ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার মোট সামরিক ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৬৫০ জনের কাছাকাছি।অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একাধিকবার দাবি করেছেন, প্রতি মাসে রাশিয়ার গড়ে প্রায় ৩৫ হাজার সেনা হতাহত হচ্ছে। তবে এই পরিসংখ্যানও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে যখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তথ্য প্রকাশে সীমাবদ্ধতা বজায় রাখে। ফলে বিভিন্ন স্বাধীন গবেষণা ও ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের ওপর ভিত্তি করেই তুলনামূলক চিত্র তৈরি করা হয়।গত কয়েক বছরে ভারী ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও রাশিয়া ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে ধীরে ধীরে অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। পাশাপাশি নতুন চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগের মাধ্যমে তারা জনবল সংকট কিছুটা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে।অন্যদিকে ইউক্রেনীয় বাহিনীও রাশিয়ার নতুন কিছু আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করছে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে।সব মিলিয়ে এই নতুন তদন্ত প্রতিবেদন যুদ্ধের মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে, পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রকৃত পরিসর নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।