মৌচাক ফ্লাইওভার থেকে পোড়া মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর মৌচাক ফ্লাইওভারের ওপর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটি এতটাই দগ্ধ ছিল যে সেটি পুরুষ নাকি নারী, তাৎক্ষণিকভাবে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বয়সও নির্ধারণ করা যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার রাত দেড়টার দিকে মৌচাক ফ্লাইওভারের জোড়ার মাঝখানের ফাঁকা স্থান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ সেটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে তারা সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া একটি মরদেহ দেখতে পান। দগ্ধ অবস্থার কারণে প্রাথমিকভাবে কোনো পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে মৌচাক ফ্লাইওভারের ওপর আগুন লাগার একটি ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে সে সময় আগুনের ভেতরে কোনো মরদেহ আছে কি না, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি।পরদিন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে গিয়ে দগ্ধ মরদেহটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, আগুন লাগার ঘটনাতেই ওই ব্যক্তি পুড়ে মারা যেতে পারেন। তবে এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ মুহূর্তে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের পরিচয় শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফ্লাইওভারে আগুন লাগার সময় কারা সেখানে ছিল, কেউ ওঠানামা করেছে কি না, সন্দেহজনক কোনো যানবাহন ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।নিহতের পরিচয় উদ্ঘাটনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহসহ আধুনিক ফরেনসিক পদ্ধতি ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। কারণ মরদেহ দগ্ধ হওয়ায় প্রচলিত উপায়ে শনাক্তকরণ জটিল হয়ে পড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গভীর রাতে ফ্লাইওভারের ওই অংশে মানুষের চলাচল কম থাকে। ফলে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা নজরে না আসার সুযোগ থাকে। তারা ওই এলাকায় নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভার ও সড়কপথে নিয়মিত টহল, উন্নত আলোকসজ্জা এবং কার্যকর সিসিটিভি মনিটরিং থাকলে এ ধরনের রহস্যজনক ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।এ ঘটনায় শাহজাহানপুর থানা পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পর ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকার একটি ফ্লাইওভার থেকে পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।#আরএ