মিশা শাফির ৫০ লাখ রুপি জরিমানার রায় চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে আপিল
আলোচিত মানহানির মামলায় পাকিস্তানি গায়িকা মিশা শাফি লাহোর হাইকোর্টে আপিল করেছেন। লাহোর সেশনস কোর্টে গায়ক ও অভিনেতা আলী জাফরের দায়ের করা মামলায় তাকে ৫০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে রায় দেওয়া হয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই এবার উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন মিশা শাফি।লাহোর সেশনস কোর্টের রায়ে বলা হয়, মিশা শাফি আলী জাফরের বিরুদ্ধে যে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন, তা আদালতে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় ৫০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি পাকিস্তানের বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।মিশা শাফির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে দায়ের করা আপিলে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালত মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি। তার আইনজীবী সাকিব জিলানির মাধ্যমে দাখিল করা আপিলে দাবি করা হয়, আদালত একপাক্ষিকভাবে রায় দিয়েছে এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিগুলো উপেক্ষিত হয়েছে।আপিলে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, যদি মিশা শাফিকে তার অভিযোগ প্রমাণ করতে বলা হয়, তাহলে একইভাবে আলী জাফরেরও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় আনা উচিত ছিল। পাশাপাশি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অসামঞ্জস্য ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।২০১৮ সালে মিশা শাফি প্রথমবার আলী জাফরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। এরপর আলী জাফর তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আইনি লড়াই পাকিস্তানের শোবিজ অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত মামলায় পরিণত হয়।মামলার পূর্ববর্তী ধাপে মিশা শাফি প্রাদেশিক ওমবাডসম্যানের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার আবেদন এখনো দেশের সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেশনস কোর্টের রায় চূড়ান্ত হওয়ার আগেই তা বাতিলযোগ্য ছিল কি না, সেই প্রশ্নও আপিলে উত্থাপন করা হয়েছে।মিশা শাফির পক্ষ থেকে লাহোর হাইকোর্টে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সেশনস কোর্টের দেওয়া ৫০ লাখ রুপির ক্ষতিপূরণের রায় বাতিল করে সেটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হোক। একই সঙ্গে মামলার পুনর্বিচার এবং সব প্রমাণ নতুন করে মূল্যায়নের আবেদন জানানো হয়েছে।এদিকে আলী জাফরের পক্ষ থেকে এখনো হাইকোর্টের আপিল বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মামলাটি এখন লাহোর হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াই পাকিস্তানের বিনোদন অঙ্গনে দুই তারকার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও নানা বিতর্ক তৈরি করেছে।