ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শিগগিরই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম খুব শিগগিরই আবারও চালু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে কাজ চলছে।রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মালয়েশিয়া সফর নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের জন্য মালয়েশিয়া সরকার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।মাহদী আমিন বলেন, প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কম খরচে, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতে শ্রমবাজারে নানা অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ ছিল। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে চায় সরকার।তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট যেন না থাকে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। দক্ষ, যোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।উপদেষ্টা জানান, বিষয়টিতে দুই দেশের সরকারই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন আগ্রহী, তেমনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও সহযোগিতামূলক অবস্থান নিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ বা সীমিত থাকা শ্রমবাজার আবারও চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।গত বুধবার মালয়েশিয়া সফরে যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রমবাজার নিয়ে এটি ছিল উচ্চপর্যায়ের প্রথম সফর।সফরে তারা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো শ্রী রমন রামকৃষ্ণনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। উভয় দেশের শ্রমবাজার, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া, অভিবাসন ব্যয় এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে আলোচনা হয়।মালয়েশিয়া সফর শেষে শনিবার দেশে ফেরেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিক পাঠানো কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনো প্রক্রিয়াধীন। তবে যত দ্রুত সম্ভব এটি চালু করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।তিনি বলেন, ‘ক্রেডিবল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ বলতে নতুন কোনো সিন্ডিকেট বোঝানো হচ্ছে না। মালয়েশিয়া সব শ্রমপ্রেরণকারী দেশের ক্ষেত্রেই কিছু মানদণ্ড অনুসরণ করে। বাংলাদেশও চায়, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হোক।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়াকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সহজ ও দ্রুত সুযোগ তৈরি করা হয়। কারণ মালয়েশিয়ার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।মাহদী আমিন আরও বলেন, সরকার ধাপে ধাপে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে চায়। যাতে সাধারণ মানুষ কম খরচে বিদেশে যেতে পারেন এবং প্রতারণার শিকার না হন। আনস্কিল্ড, সেমি-স্কিল্ড ও স্কিল্ড—সব ধরনের কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের ডিগ্রি ও সনদের সমন্বয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে মালয়েশিয়া।তিনি বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে। তাই বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত শ্রমবাজার খুলে গেলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।#আরএ

শিগগিরই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার