সিনেমার সংলাপকে বাইবেলের বাণী বললেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের এক প্রার্থনা সভায় সিনেমার সংলাপকে বাইবেলের বাণী হিসেবে উপস্থাপন করার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেনাদের মনোবল বাড়াতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি যে উদ্ধৃতি ব্যবহার করেন, পরে জানা যায় সেটি কোনো ধর্মীয় বাণী নয়, বরং হলিউড সিনেমা ‘পাল্প ফিকশন’ থেকে নেওয়া সংলাপ।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ডেমোক্র্যাট পার্টির কয়েকজন আইনপ্রণেতা বিষয়টিকে গুরুতর প্রশাসনিক ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়ে হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাবও উত্থাপন করেন।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পিট হেগসেথ তার বক্তব্যে যে উদ্ধৃতি ব্যবহার করেন, সেটি ১৯৯৪ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘পাল্প ফিকশন’-এর একটি বিখ্যাত সংলাপ। ওই সিনেমায় জুলস উইনফিল্ড নামের চরিত্র, যিনি অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন অভিনীত, হত্যাকাণ্ডের আগে ধর্মীয় ভাবভঙ্গিতে একটি দীর্ঘ বক্তব্য দেন। সেই সংলাপই পরবর্তীতে সাংস্কৃতিকভাবে বহুল আলোচিত হয়ে ওঠে।হেগসেথ পেন্টাগনের প্রার্থনা সভায় বলেন, এটি নাকি মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট ‘স্যান্ডি ১’-এর ব্যবহৃত প্রার্থনা, যা ইজেকিয়েল ২৫:১৭ বাইবেলীয় উদ্ধৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি দাবি করেন, ওই ইউনিট ইরানে একটি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় এই বক্তব্য ব্যবহার করেছিল।তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার উদ্ধৃত বক্তব্য বাইবেলের আসল ইজেকিয়েল ২৫:১৭ অংশের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। বরং এটি ‘পাল্প ফিকশন’ সিনেমার সংলাপের সম্প্রসারিত ও পরিবর্তিত সংস্করণের সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।দ্য নিউজউইকসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিষয়টি বিশ্লেষণ করে জানায়, বাইবেলের মূল বাণী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং সেখানে প্রতিশোধ ও ন্যায়ের ধারণা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে সিনেমার সংলাপটি অনেক দীর্ঘ এবং নাটকীয়ভাবে সম্প্রসারিত।ঘটনার পর পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি শন পারনেল এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হেগসেথ যে উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছেন, সেখানে পাল্প ফিকশন চলচ্চিত্রের প্রভাব রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।তবে এই ব্যাখ্যা বিতর্ক কমাতে পারেনি। বরং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ আরও বেড়েছে। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন ভুল তথ্য ব্যবহার অগ্রহণযোগ্য এবং এটি প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতার উদাহরণ।অন্যদিকে সমর্থকদের একাংশ বিষয়টিকে কেবল একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল সেনাদের অনুপ্রাণিত করা, কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তি তৈরি করা নয়।এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে উচ্চপর্যায়ের সরকারি বক্তব্যে ভুল উদ্ধৃতি ব্যবহার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।#আর