ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

যোগ্যতা ছাড়া শুধু দলীয় আনুগত্যে লাভ নেই: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, শুধুমাত্র দলীয় আনুগত্য বা দলবাজির মাধ্যমে প্রশাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, তবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব গ্রহণযোগ্য নয়।শনিবার (২ মে) বিকেলে সচিবালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, রোববার (৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন, যা চলবে ৬ মে পর্যন্ত। এবারের সম্মেলনে মোট ৩৪টি কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে পাঠানো বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্য থেকে বাছাই করা ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে।তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। ফলে এবারের সম্মেলন প্রশাসনিক কার্যক্রমের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।নাসিমুল গনি জানান, রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের যেসব প্রত্যাশা রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসনের করণীয় নির্ধারণেও এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্ধারিত অধিবেশনের বাইরে জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।জেলা প্রশাসকদের পাঠানো প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাত উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব সবচেয়ে বেশি এসেছে।তিনি জানান, হাসপাতালগুলোতে এন্টিভেনম ইনজেকশন সহজলভ্য করা, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে অন্তত একটি অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা এবং জেলা কারাগারগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। দ্বিতীয় দিনে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিষয় আলোচনা করা হবে।তৃতীয় দিনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে সম্মেলনের সমাপ্তি হবে।মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কার্যকর প্রশাসন গড়ে তুলতে দক্ষতা, জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যোগ্যতা ছাড়া শুধু দলীয় আনুগত্যে লাভ নেই: মন্ত্রিপরিষদ সচিব