বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলে চোটের হানা
বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের চোটে দল ঘোষণার আগেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইতোমধ্যে নিশ্চিতভাবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও ও ফরোয়ার্ড রদ্রিগো গোয়েস। অন্যদিকে তরুণ ফরোয়ার্ড এস্তেভাওয়ের অংশগ্রহণও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।দলের আক্রমণভাগে বড় সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত এস্তেভাও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পাওয়ার পর কান্নারত অবস্থায় মাঠ ছাড়েন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে আর মাঠে ফেরা হচ্ছে না তার। ফলে বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।চেলসির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেন অবশ্য আশা ছাড়ছেন না। তার মতে, সময় হাতে থাকায় ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপের আগে ফিটনেস ফিরে পেতে পারেন। তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন, এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।গত বছর ব্রাজিলিয়ান ক্লাব পালমেইরাস থেকে চেলসিতে যোগ দেন এস্তেভাও। ইউরোপে প্রথম মৌসুমেই নজর কাড়েন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আট গোল করার পাশাপাশি জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ছয় ম্যাচে পাঁচ গোল করেছেন এই তরুণ। ফলে বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছিল।তবে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলোর একটি এসেছে রদ্রিগো গোয়েসকে হারিয়ে। ডান হাঁটুর মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়া এবং অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ইনজুরিতে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন তিনি। চিকিৎসকদের ধারণা, এই চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপের আগে ফেরা সম্ভব নয়।চোট পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তিনি লিখেছিলেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলোর একটি এবং এই ধরনের ইনজুরিকেই সবসময় সবচেয়ে বেশি ভয় পেতেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলেছিলেন রদ্রিগো এবং বর্তমান দলের অন্যতম নির্ভরতার নাম ছিলেন তিনি।রক্ষণভাগেও সমান ধাক্কা পেয়েছে সেলেসাওরা। অভিজ্ঞ সেন্টারব্যাক এদের মিলিতাও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছেন। স্প্যানিশ লিগে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলতে গিয়ে এই চোটে পড়েন তিনি। প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানা গেছে, তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচার হলেও বিশ্বকাপের আগে শতভাগ ফিট হওয়া কঠিন। ফলে বাস্তবতা বিবেচনায় তাকে ছাড়াই পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে ব্রাজিলকে।একই সঙ্গে আক্রমণ ও রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের হারানোয় নতুন সমীকরণে পড়েছেন কোচ আনচেলত্তি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতা ও ফর্মে থাকা ফুটবলারদের অনুপস্থিতি দলীয় ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এখন বিকল্প খেলোয়াড়দের নিয়ে নতুন কৌশল সাজাতে হবে ব্রাজিল কোচকে।আগামী ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দল ঘোষণা, স্কোয়াডের ভারসাম্য এবং ইনজুরি পরিস্থিতি এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।বিশ্বকাপের মঞ্চে বরাবরই শিরোপাপ্রত্যাশী ব্রাজিল। তবে এবার শিরোপা লড়াইয়ে নামার আগেই চোট-সংকট বড় পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়েছে সেলেসাওদের। এখন দেখার বিষয়, অনিশ্চয়তার এই পরিস্থিতি কতটা সামলে উঠতে পারেন আনচেলত্তি ও তার দল।