ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শেরপুরে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ধলী বিল প্লাবিত, তলিয়ে বোরো ধান; দিশেহারা কৃষক

শেরপুর জেলায় টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলগুলোতে হঠাৎ করেই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে ঝিনাইগাতী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে সারিকালীনগর এলাকার ধলী বিলসংলগ্ন ফসলি জমিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় শত শত কৃষক এখন চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।সরেজমিনে দেখা যায়, ধলী বিল এলাকায় মাঠের পর মাঠ সোনালি ধান এখন পানির নিচে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও কেবল ধানের শীষ পানির ওপর ভেসে থাকতে দেখা যাচ্ছে- যেন শেষ আশাটুকুও ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে। যে সময়টাতে কৃষকেরা ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রকৃতির এই নির্মম আঘাতে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেছে।তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ও সাংবাদিক শান্ত শিফাত জানান, তার বড় অংশের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। “আড়াই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চাষ করেছি। এখন সব পানির নিচে। কিছু ধান কাটার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পানি থাকায় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। হাজার টাকা মজুরি দিলেও কেউ কাজ করতে চায় না। এখন কীভাবে ঋণ শোধ করব, কীভাবে সংসার চালাব- কিছুই বুঝতে পারছি না,” বলেন তিনি।একই অবস্থা উপজেলার উত্তর দাড়িয়ারপাড় ও চাপাঝোড়া গ্রামেও। স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান ও নজরুল ইসলাম জানান, এলাকায় কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। নজরুল ইসলাম বলেন, “২০-৩০ একর জমির ধান পানির নিচে। দ্রুত পানি না নামলে সব ধান পচে যাবে। আগে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল, এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পানি বের হওয়ার পথ নেই।”কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছরই এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান নেওয়া হচ্ছে না। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগের অভাবে তাদের ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই এনজিও বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। এখন ফসল নষ্ট হওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ, পরিবারের ব্যয়ভার বহন- সবকিছুই তাদের কাছে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রণোদনা এবং কৃষিঋণে বিশেষ ছাড় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন জানিয়েছেন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে প্রশাসন কাজ শুরু করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই দুর্যোগ তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং অনেকেই চাষাবাদ চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে পারেন।

শেরপুরে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ধলী বিল প্লাবিত, তলিয়ে বোরো ধান; দিশেহারা কৃষক