বিজয়ের রাজনীতি নিয়ে মন্তব্যে অনাগ্রহ মাম্মুট্টির
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে অভিনেতা থালাপাতি বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে যখন জোর আলোচনা চলছে, তখন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন মালায়ালম সুপারস্টার মাম্মুট্টি। একই ইস্যুতে এর আগে নীরবতা বজায় রেখেছিলেন অভিনেতা কমল হাসানও।২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ‘তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগম’ (টিভিকে) নামে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন থালাপাতি বিজয়। দলটির হয়ে প্রথমবার নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন তিনি। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। নির্বাচন ঘিরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।এ পরিস্থিতিতে নিজের নতুন সিনেমা ‘প্যাট্রিয়ট’-এর প্রচারণার কাজে চেন্নাইয়ে অবস্থান করছিলেন মাম্মুট্টি। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছালে সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করেন।প্রথমে প্রশ্নটি ভালোভাবে শুনতে চান মাম্মুট্টি। এরপর প্রশ্ন পুনরায় করা হলে তিনি হাসিমুখে সংক্ষেপে জবাব দেন, “ওন্নুমে তেরিয়াথা” — যার অর্থ “আমি কিছুই জানি না।” সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে আরও জানতে চাইলেও তিনি একই উত্তর পুনরাবৃত্তি করেন এবং অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করেননি।তার এই সংক্ষিপ্ত ও এড়িয়ে যাওয়া প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। কেউ কেউ বিষয়টিকে কূটনৈতিক নীরবতা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন তিনি বিতর্ক এড়াতেই মন্তব্য করেননি।এর আগে একই ইস্যুতে অভিনেতা কমল হাসানও সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে নিজের কাজ ও চলচ্চিত্র নিয়েই মনোযোগ রাখার কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই তার নতুন সিনেমার কাজ শুরু হবে।অন্যদিকে থালাপাতি বিজয়ের রাজনীতিতে প্রবেশকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তার রাজনৈতিক দল টিভিকে-কে ঘিরে সমর্থক ও সমালোচক—উভয় পক্ষই সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে।বিজয় সম্প্রতি নির্বাচনের আগে ধর্মীয় স্থানে উপস্থিত হয়ে আশীর্বাদ নেন এবং বিভিন্ন জনসংযোগ কার্যক্রমে অংশ নেন বলে জানা গেছে। তার রাজনৈতিক পদক্ষেপকে অনেকেই নতুন প্রজন্মের তারকা রাজনীতিবিদ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।এদিকে চলচ্চিত্র ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে দক্ষিণ ভারতের তারকা মহলে নানা মত থাকলেও বড় তারকাদের অনেকেই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য এড়িয়ে চলছেন।মাম্মুট্টির সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই সেই নীরব অবস্থানেরই একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি মূলত নিজের চলচ্চিত্র প্রচারণা নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন এবং রাজনৈতিক প্রশ্ন থেকে দূরে থাকছেন।বর্তমানে বিজয়ের শেষ সিনেমা ‘জনা নায়াগন’ নিয়েও আলোচনা চলছে। সিনেমাটির মুক্তি নির্ধারিত সময় থেকে পিছিয়ে গেছে সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন জটিলতার কারণে। অন্যদিকে টিভিকে দলের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার দিন ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে।সব মিলিয়ে দক্ষিণ ভারতীয় বিনোদন ও রাজনীতির এই সংযোগ আবারও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে, যেখানে তারকারা প্রকাশ্যে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছেন।