ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তারকাদের নামে নবজাতকদের নাম রাখার নতুন প্রবণতা

বিশ্বজুড়ে ফুটবল শুধুই একটি খেলা নয়, বরং কোটি মানুষের আবেগ, পরিচয় এবং সংস্কৃতির অংশ। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে ফুটবল তারকাদের প্রতি ভক্তি অনেক সময় পারিবারিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলে। সেই প্রভাবেরই ব্যতিক্রমী এক উদাহরণ দেখা যাচ্ছে নবজাতকদের নামকরণে। প্রিয় ফুটবলারদের নামে সন্তানের নাম রাখার প্রবণতা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।ইকুয়েডরের সিভিল রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল-অনুপ্রাণিত নাম স্থানীয় কোনো তারকার নয়; বরং ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমারের। দেশটিতে ৩ হাজার ৮৪৭ শিশুর নাম রাখা হয়েছে নেইমার। মাঠের পারফরম্যান্স, ক্যারিশমা এবং দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা তাকে ভক্তদের কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর বিশ্ব ফুটবলে তার প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ইকুয়েডরে ২ হাজার ৮০০-এর বেশি শিশুর নাম এমবাপ্পের নামে রাখা হয়েছে। আধুনিক ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে তার জনপ্রিয়তা নতুন প্রজন্মের অভিভাবকদের সিদ্ধান্তেও প্রতিফলিত হচ্ছে।তৃতীয় অবস্থানে আছেন কলম্বিয়ার তারকা জেমস রদ্রিগেজ। ইকুয়েডরে ২ হাজার ১৩৬ শিশুর নাম রাখা হয়েছে তার নামে। ২০১৪ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসা এই মিডফিল্ডারের জনপ্রিয়তা এখনও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে অটুট রয়েছে।আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নামও রয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষ তালিকায়। ইকুয়েডরে ১ হাজার ৫৪৯ জন শিশুর নাম লিওনেল, ৩৮ জনের নাম মেসি, ১৭৮ জনের নাম ক্রিশ্চিয়ানো এবং ১ হাজার ৬ জনের নাম রোনালদো রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করা এই দুই তারকার প্রভাব যে মাঠের বাইরেও বিস্তৃত, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ।কলম্বিয়াতেও একই চিত্র দেখা যায়। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে কিলিয়ান বা এমবাপে নামের শিশুর সংখ্যা ৮৩৬। এছাড়া নেইমার নামে রয়েছে ২৬৯ জন এবং ক্রিশ্চিয়ানো বা রোনালদো নামে ২২০ জনেরও বেশি শিশু।অন্যদিকে ব্রাজিলে নেইমারের জনপ্রিয়তা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। দেশটির ২০২২ সালের আদমশুমারির তথ্য বলছে, ২ হাজার ৪৪৩ শিশুর নাম রাখা হয়েছে নেইমার। তবে শুধু স্থানীয় তারকাই নয়, ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পের প্রতিও আগ্রহ দেখিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান অভিভাবকরা। চার শতাধিক শিশুর নাম রাখা হয়েছে কিলিয়ান।ফুটবলপাগল আর্জেন্টিনায় ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর 'লিওনেল' নামটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। জাতীয় দলের সাফল্যের সঙ্গে তারকা ফুটবলারের প্রতি ভালোবাসার মিশ্রণ নামকরণের প্রবণতাকে আরও জোরালো করে তোলে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এই নামের জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়েছে।এদিকে চিলিতে এক পরিবারের নামকরণের ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। তারা তাদের নবজাতকের নাম রাখে 'গ্রিজমান এমবাপে'। ফ্রান্সের আঁতোয়ান গ্রিজমান এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের নামের সংমিশ্রণে তৈরি হয় এই নাম। একই পরিবারের আরেক সন্তানের নাম 'জেমস মদরিচ', যা জেমস রদ্রিগেজ ও লুকা মদরিচের নামের সমন্বয়।ফুটবল তারকাদের নামে সন্তানের নাম রাখার এই প্রবণতা কেবল জনপ্রিয়তার বিষয় নয়; এটি ফুটবলের প্রতি মানুষের গভীর আবেগ ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের প্রতিফলন। ভবিষ্যতে নতুন কোনো তারকা বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হয়ে উঠলে নবজাতকদের নামের তালিকাতেও যুক্ত হতে পারে নতুন নতুন নাম। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসর তাই শুধু মাঠের লড়াই নয়, সমাজ ও সংস্কৃতিতেও রেখে যায় দীর্ঘস্থায়ী ছাপ।#আরইউএস

তারকাদের নামে নবজাতকদের নাম রাখার নতুন প্রবণতা