ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নারীদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

নারীদের শিক্ষা বিস্তারে নতুন উদ্যোগ হিসেবে স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে অতীতে বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষা ফি মওকুফ করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার মেয়েদের উচ্চশিক্ষা আরও সহজলভ্য করতে স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের নারীশিক্ষার হার বাড়বে, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হবে এবং সামাজিক অগ্রগতিতে নতুন গতি আসবে।তিনি বলেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় মেয়েদের মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করা হয়েছিল। পরে ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়। এখন সেই অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীশিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সমানভাবে উপকৃত হয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও যাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা হরতালের সুযোগ দেওয়া হবে না। জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়—এমন কর্মসূচির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে চায়।তারেক রহমান বলেন, যারা অতীতে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, তারাই আবার নতুন করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান চায়। তাই বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতির কোনো স্থান নেই।সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। বর্তমানে যেসব পরিবার সহায়তা পাচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ এ সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, শিল্পকারখানা চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, স্থানীয় অর্থনীতি সচল হবে এবং যুবসমাজের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকার উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে।এর আগে প্রধানমন্ত্রী যশোরের শার্শায় উলশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এছাড়া হরিনারবিলে ৫০০ শয্যার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন এবং দড়াটানায় যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের উদ্বোধন করেন।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহেদ আলম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ দল ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।বেলা আড়াইটায় জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। নারীদের উচ্চশিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণাকে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।

নারীদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর