নববর্ষে ঐক্য, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীর প্রতি ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি জাতির ঐক্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক শক্তিশালী প্রতীক।রাষ্ট্রপতি বলেন, পহেলা বৈশাখ জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে সবার জন্য এক আনন্দমুখর মিলনমেলা হিসেবে আবির্ভূত হয়। এটি বাঙালির গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক। নববর্ষের আগমনে মানুষের জীবনে নতুন প্রত্যাশা, নতুন প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বাণীতে তিনি আরও বলেন, অতীতের ব্যর্থতা, গ্লানি ও দুঃখকে পেছনে ফেলে জাতি নতুন উদ্যমে এগিয়ে যায়। এই উৎসব আমাদের মনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং সামগ্রিকভাবে সমাজে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।এবারের নববর্ষ উপলক্ষে ঘোষিত ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকে রাষ্ট্রপতি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি খাতকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, মুঘল আমলে ফসলি সনের প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে যে ঐতিহাসিক ধারার সূচনা হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতায় নববর্ষে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি কৃষকদের জন্য নিরাপদ আর্থিক লেনদেন ও সরকারি সহায়তা সহজ করবে এবং কৃষি ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে।তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যা একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত দেয়।বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নানা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সবাইকে আরও সংযমী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।নববর্ষের আনন্দঘন মুহূর্তে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বছর সমাজ থেকে সকল অশুভতা দূর করবে এবং সত্য ও সুন্দরের বিকাশ ঘটাবে। বিদায়ী বছরের দুঃখ-কষ্ট মুছে গিয়ে নতুন বছর ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।রাষ্ট্রপতির এই বাণীকে কেন্দ্র করে নববর্ষের প্রাক্কালে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সম্প্রীতি, উন্নয়ন এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা আরও জোরালো হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।#আরএ