পদত্যাগের পর প্রথমবার মুখ খুললেন দীপেন দেওয়ান
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ৪৮ ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। বুধবার রাতে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং বিএনপির প্রতি নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।গত ১ জুন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন দীপেন দেওয়ান। এরপর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে তার সমর্থকদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এ অবস্থায় তার নীরবতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়।ফেসবুক পোস্টে দীপেন দেওয়ান বলেন, তার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে যে আবেগ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। তিনি পাহাড়ি, বাঙালি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি শান্তি, ধৈর্য এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। কোনো ধরনের উসকানি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার পরিবেশ অটুট রাখার অনুরোধ করেন তিনি।তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবার এবং এ অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও আস্থার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক—এটাই তার প্রত্যাশা।পোস্টে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে দীপেন দেওয়ান জানান, তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা ছিলেন এবং সেই আদর্শ ও দেশপ্রেম তার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগ দেন এবং শুরু থেকেই দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন বলে উল্লেখ করেন।দীপেন দেওয়ান স্পষ্টভাবে বলেন, বিএনপিই তার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দলটির আদর্শ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই দলের প্রতি তার আনুগত্য অটুট থাকবে এবং তিনি কখনো বিএনপি ত্যাগ করবেন না।তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি আবারও শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তা যেন বিভেদ বা সংঘাতে রূপ না নেয় বলেও মন্তব্য করেন।পোস্টের শেষাংশে দীপেন দেওয়ান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করতে চান এবং বিএনপিকেই নিজের ‘শেষ ঠিকানা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাবেক এই মন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের সব সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, উন্নয়ন ও সম্প্রীতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন।