স্বামীর বোনকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করে ২৮ বছরের দাম্পত্যে ইতি
ভারতের মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়রে এক ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত বিয়েবিচ্ছেদ মামলা আদালতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্বামীর নিজের বোনকেই ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করে এক নারী পারিবারিক আদালত থেকে একতরফা ডিভোর্স আদায় করেন। প্রায় ২৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের এই ইতি টানার ঘটনা এখন গড়িয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গ্বালিয়র বেঞ্চে।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে গ্বালিয়রের এক নারী এবং বিপণন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। কর্মসূত্রে স্বামী প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন, যা ধীরে ধীরে দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করে। ২০১৫ সাল থেকে তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। এই সময় থেকেই সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়তে থাকে।পরবর্তীতে স্ত্রী বিচ্ছেদের জন্য পারিবারিক আদালতে আবেদন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এই দাবির সমর্থনে তিনি আদালতে একটি পারিবারিক গ্রুপ ছবি জমা দেন, যেখানে স্বামীর পাশে দাঁড়ানো এক নারীকে তিনি ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ওই ছবির ভিত্তিতেই আদালত স্বামীর অনুপস্থিতিতে একতরফাভাবে ডিভোর্সের রায় দেয়।তবে চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে স্বামী ওই রায়ের বিষয়ে জানতে পারেন। আদালতের নথি পর্যালোচনা করে তিনি বিস্মিত হন। কারণ, ছবিতে যাকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, তিনি আসলে তার নিজের আপন বোন।এই ঘটনার পর স্বামী মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গ্বালিয়র বেঞ্চে আপিল করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করে একতরফা ডিভোর্স আদায় করেছেন। তার দাবি, পুরো রায় ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে।সরকারি আইনজীবী ধর্মেন্দ্র শর্মা জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। স্বামী আদালতের কাছে অনুরোধ করেছেন, পূর্বের ডিভোর্স রায় বাতিল করা হোক এবং পুনরায় সঠিক তথ্য যাচাই করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হোক।এদিকে পারিবারিক আদালতের ওই রায় ঘিরে সামাজিক ও আইনি মহলে প্রশ্ন উঠেছে—একটি সাধারণ ছবি কীভাবে এমন গুরুতর সিদ্ধান্তের ভিত্তি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রমাণ যাচাইয়ে আরও সতর্কতা প্রয়োজন ছিল, বিশেষ করে যখন সম্পর্ক ও পরিচয়ের ব্যাখ্যায় বিভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকে।হাইকোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিতর্কের আইনি দিক এবং প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হবে বলে জানা গেছে।