অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের বাড়িতে বোমা আতঙ্ক
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান আবারও বোমা হামলার হুমকির মুখে পড়েছেন। চেন্নাইয়ের তেনামপেট এলাকায় তার বাসভবনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কয়েক মাসের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয়বারের মতো একই ধরনের হুমকি পাওয়ার ঘটনা বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চেন্নাই পুলিশের কন্ট্রোল রুমে একটি ই-মেইল আসে, যেখানে দাবি করা হয় অভিনেত্রী তৃষার বাসায় বোমা রাখা হয়েছে। বার্তাটি পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দ্রুত তেনামপেট থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল (বিডিডিএস) এবং স্নিফার ডগ ইউনিট মোতায়েন করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে বাসভবনের ভেতর ও আশপাশের প্রতিটি অংশ পরীক্ষা করা হয়। কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়, কোথাও কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। ফলে এটি সম্পূর্ণ ভুয়া হুমকি বলে ঘোষণা করা হয়।ঘটনার পর চেন্নাই পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত মিথ্যা ই-মেইল, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ই-মেইলের উৎস শনাক্তের জন্য। প্রেরকের আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করার কাজ চলছে।এর আগে একই ধরনের হুমকির মুখে পড়েছিলেন তৃষা কৃষ্ণান। গত বছরের অক্টোবরেও তার বাসভবনকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। স্বল্প ব্যবধানে পুনরায় এমন ঘটনা ঘটায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।শুধু তৃষা নয়, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ ভারতের একাধিক তারকার বাসভবনেও এ ধরনের ভুয়া বোমা হুমকির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তালিকায় রয়েছেন রজনীকান্ত, থালাপতি বিজয়, অজিত কুমার এবং ধানুশের মতো জনপ্রিয় অভিনেতারা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তল্লাশির পর কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি এবং ঘটনাগুলোকে ‘প্র্যাংক’ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া তথ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।পুলিশের মতে, এসব হুমকির পেছনে সংগঠিত সাইবার অপরাধচক্রের হাত থাকতে পারে, যারা ই-মেইল বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে বিষয়টি শুধু একটি সাধারণ হুমকি নয়, বরং বৃহত্তর নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।বর্তমানে চেন্নাই পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।এদিকে, তৃষা কৃষ্ণনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এমন যেকোনো ভুয়া হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।