ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঢাবির শাহনেওয়াজ হোস্টেলের সামনে গুলিতে নিহত ১

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ হোস্টেলের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। নিহত ব্যক্তি ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের পরিচিত সন্ত্রাসী টিটন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার পুরো নাম খন্দকার নাঈম আহমেদ।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিহত ব্যক্তি হাজারীবাগ এলাকার নাঈম আহমেদ টিটন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত চলছে।পুলিশ ও আন্ডারওয়ার্ল্ড সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, টিটন দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকার অপরাধ জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। হত্যা, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।এক সময়ের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায়ও ছিলেন টিটন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় যেসব ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন।জানা গেছে, টিটন দুই দশকের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জামিন পেলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতায় মুক্তি পাননি। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি কারামুক্ত হন।তবে মুক্তির পর নিয়মিত আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তিনি পুনরায় পলাতক হিসেবে চিহ্নিত হন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছিল বলে জানা গেছে।সূত্রগুলো বলছে, পারিবারিক ও অপরাধী বলয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টিটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ স্বজনদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে তার বোনজামাইয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও পুলিশ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।টিটন ঢাকার আরেক আলোচিত সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক ছিলেন। ইমনের প্রভাববলয়ের মধ্য দিয়েই তিনি অপরাধ জগতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মতো ব্যস্ত ও স্পর্শকাতর স্থানে এমন গুলির ঘটনায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যান।পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অপরাধী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের ওপর নজরদারি শুরু হয়েছে।রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তের অগ্রগতি এবং হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানের মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।

ঢাবির শাহনেওয়াজ হোস্টেলের সামনে গুলিতে নিহত ১