১৫ বছর পর চাকরিতে ফিরে অতিরিক্ত ডিআইজি হলেন কোহিনূর
দীর্ঘ ১৫ বছর পর চাকরিতে পুনর্বহাল হওয়া আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মো. কোহিনূর মিয়াকে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। তাকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি), গ্রেড-৪ পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদের স্বাক্ষরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি, পশ্চিম) মো. কোহিনূর মিয়াকে ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি দেওয়া হলো। তিনি বিধি মোতাবেক বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।প্রশাসনিক পরিভাষায় ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি বলতে বোঝায়, কোনো কর্মকর্তাকে পূর্ববর্তী নির্দিষ্ট তারিখ থেকে পদোন্নতির সুবিধা দেওয়া। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা চাকরির ধারাবাহিকতা, বেতন স্কেল, জ্যেষ্ঠতা এবং অন্যান্য সুবিধা পুনরুদ্ধারের সুযোগ পান।এর আগে গত ৯ মার্চ প্রায় দেড় দশক আগে দেওয়া বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে কোহিনূর মিয়াকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। রাষ্ট্রপতির পুনর্বিবেচনার আওতায় তার আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।চাকরিতে পুনর্বহালের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে দেওয়া গুরুদণ্ড হিসেবে বরখাস্তের আদেশ পুনর্বিবেচনায় বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করে প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা, পদোন্নতি সুবিধা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক অধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।সরকারি সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার তাকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে উন্নীত করা হলো। এতে দীর্ঘদিন চাকরির বাইরে থাকা একজন কর্মকর্তার প্রশাসনিক অবস্থান পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগোল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।উল্লেখ্য, বিসিএস ১২ ব্যাচের কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়া একসময় ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং পরে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঘটনায় তিনি আলোচনায় আসেন এবং বিতর্কের মুখেও পড়েন।২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই সিদ্ধান্তের পর দীর্ঘ সময় তিনি চাকরির বাইরে ছিলেন।পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর তার বরখাস্তাদেশ পুনর্বিবেচনার আওতায় আসে। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হলে তিনি চাকরিতে ফেরার সুযোগ পান। এরপর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পদোন্নতির এই সিদ্ধান্ত আসে।জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক ন্যায়বিচার, পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রয়োগের বিষয়গুলো সামনে আসে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা চাকরি-সংক্রান্ত মামলাগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে।তবে কোহিনূর মিয়ার অতীত বিতর্ক এবং তার পুনর্বহাল-পদোন্নতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ এটিকে প্রশাসনিক প্রাপ্য অধিকার হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রশ্ন তুলছেন।সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ১৫ বছর পর চাকরিতে ফিরে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাওয়া কোহিনূর মিয়ার ঘটনা প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।#আরএ