জুরাছড়িতে নৌকাডুবি, ১১ নারী ও শিশুকে উদ্ধার
রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা জুরাছড়িতে নৌকাডুবির ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১১ জন যাত্রীকে অক্ষত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে উপজেলার রাজমনিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতায় কোনো প্রাণহানি ছাড়াই সবাইকে নিরাপদে তীরে তোলা সম্ভব হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নারী, শিশু ও পুরুষ সদস্যদের নিয়ে একটি নৌকা রাজমনিপাড়া সংলগ্ন জলপথে চলাচল করছিল। পথে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি পানিতে ডুবে যায়। রাতের অন্ধকারে দুর্ঘটনা ঘটায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার খবর দ্রুত রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে নামেন। জুরাছড়ি জোন (২ বীর)-এর আওতাধীন ওই ক্যাম্প থেকে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। দুর্গম এলাকা, রাতের অন্ধকার এবং সীমিত আলোর মধ্যেও সেনাসদস্যরা দ্রুত পানিতে নেমে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নৌকাডুবির পর কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন, আবার কয়েকজন শিশু ও নারী আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা একে একে সবাইকে পানির মধ্য থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। তাদের দ্রুততা ও প্রশিক্ষিত দক্ষতার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।অন্যদিকে শিশু ও অন্যান্য যাত্রীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হননি এবং সকলেই সুস্থ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জুরাছড়ি ও আশপাশের অনেক দুর্গম এলাকায় নৌপথই প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। পাহাড়ি সড়ক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিদিন বহু মানুষ নৌকায় যাতায়াত করেন। তবে অনেক সময় পুরোনো নৌযান, যান্ত্রিক ত্রুটি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবে ঝুঁকি তৈরি হয়।তারা আরও বলেন, দুর্ঘটনার সময় সেনাবাহিনীর দ্রুত উপস্থিতি না থাকলে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে জরুরি পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর এ ধরনের মানবিক ভূমিকা স্থানীয় মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নৌকাডুবির কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে চলাচলকারী নৌযানগুলোর যান্ত্রিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য এলাকার জলপথে নিয়মিত যাত্রীবাহী নৌযানের জন্য নিবন্ধন, পর্যায়ক্রমিক ফিটনেস পরীক্ষা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা জরুরি। তা না হলে ছোটখাটো যান্ত্রিক ত্রুটিও বড় দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।#আরএ