নতুন দুটি জাতীয় দিবস ঘোষণা, ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি
দেশে নতুন করে দুটি জাতীয় দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৬ জুলাই ‘পল্লী উন্নয়ন দিবস’ এবং ৭ নভেম্বর ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। নতুন ঘোষিত দিবসগুলোর মধ্যে ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি থাকবে, তবে ৬ জুলাই কোনো সাধারণ ছুটি থাকবে না।বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তিনি বলেন, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিবস দুটি জাতীয়ভাবে পালিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করবে।মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ৬ জুলাইকে পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা এবং পল্লী সমাজের অগ্রগতিকে গুরুত্ব দেওয়ার অংশ হিসেবে। তবে দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকবে না। বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা দিবসটি ঘিরে আলোচনা সভা, সেমিনার এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আয়োজন করতে পারে।অন্যদিকে ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের পাশাপাশি এদিন সরকারি ছুটি থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে আলোচিত দিনটি এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার। এর ফলে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছুটি কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সৌরশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিটি সম্ভাব্য প্রকল্প, বিনিয়োগ কাঠামো এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে কাজ করবে।বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবেও দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানানো হয়। বিকল্প জ্বালানি উৎস সম্প্রসারণ, সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং আমদানি ব্যবস্থাপনা জোরদারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক মন্ত্রী অংশ নেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক, ভূমি, তথ্য, প্রবাসী কল্যাণ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তে জাতীয় দিবসের তালিকায় দুটি নতুন সংযোজন হলো। একই সঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়ন, ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।#আরএ