ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মব সৃষ্টির ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. স্বপন কাজী (৩৬) ও মো. শাওন হোসেন (২৫)। মামলার মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদেরও শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় মঈন উদ্দিনকে এক নম্বর আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ইনচার্জ আবু হানিফ বাদী হয়ে শনিবার মামলাটি করেন।মামলার এজাহার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক সিকেডি হাসপাতালে প্রবেশ করে কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ সময় তারা হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেয় এবং ভেতরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ঘোরাফেরা করছে এবং কর্মীদের সঙ্গে উচ্চস্বরে বাকবিতণ্ডায় জড়াচ্ছে। একপর্যায়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে তারা অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশের চেষ্টা করে। এতে রোগীসেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফুটেজে হাসপাতালের কর্মী আবু হানিফকে শারীরিকভাবে হেনস্তার দৃশ্যও দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, গত বছরের আগস্টের পর থেকেই মঈন উদ্দিন বিভিন্নভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তিনি জোরপূর্বক হাসপাতালের জন্য মেডিকেল যন্ত্রপাতি, চালসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি কয়েক দফায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া হাসপাতালে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে বের করে দিতে চাপ প্রয়োগের কথাও বলা হয়েছে। এসব দাবি মানা না হলে হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লোকসমাগম ঘটানো এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির হুমকি দেওয়া হতো বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।সিকেডি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদেরও জানানো হয়েছিল। তবে কার্যকর কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। বরং কয়েকবার ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে হাসপাতালের সামনে অবস্থান করে নানা অপপ্রচার চালানো হয়।ঘটনার পর চিকিৎসক সমাজ ও রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনুপ্রবেশ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের অনেকে দ্রুত বিচার এবং হাসপাতাল নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।র‌্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।#আরএ

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭