গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ৫ জন নিহত
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে নয় বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। চলমান যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গাজায় নিয়মিত হামলা ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির রেমাল এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন এবং আরও ছয়জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।একই দিনে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস এলাকায় পৃথক এক হামলায় নয় বছর বয়সী আদেল আল-নাজ্জা নামে এক শিশু নিহত হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের সময় শিশুটি রাস্তায় ছিল।তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, “ইয়েলো লাইন” নামে পরিচিত একটি এলাকায় একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেনাদের দিকে এগিয়ে আসায় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, কারণ তাৎক্ষণিকভাবে হুমকি তৈরি হয়েছিল। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তারা উপস্থাপন করেনি।অন্যদিকে, নিহত শিশুটির পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, সে যুদ্ধক্ষেত্রের কাছে রান্নার জন্য আগুন জ্বালাতে কার্ডবোর্ড সংগ্রহ করছিল। আকস্মিক হামলায় তার মৃত্যু ঘটে বলে তারা জানান।গাজার নাসের হাসপাতালের মর্গ সূত্রেও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বরং প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার।২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সেখানে নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৫৯৪ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৪০৪ জন।আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতি মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে। বিশেষ করে শিশু ও সাধারণ নাগরিকদের হতাহতের ঘটনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সংঘাত অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।গাজায় চলমান পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এই সহিংসতা থামানো কঠিন হবে।