‘সাংবাদিকরা বিএনপির মাধ্যমে চলবে’ মন্তব্যে বিপাকে যুবদল নেতা
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালামের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাংবাদিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে তার আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে আব্দুস সালামকে বলতে শোনা যায়, দৌলতপুরে সাংবাদিকদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে বিএনপির মাধ্যমে তা পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দৌলতপুরে কোনো সাংবাদিক নেই, সবাই কেবল রিপোর্টার।তার এ বক্তব্যে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, একজন রাজনৈতিক নেতার এমন মন্তব্য শুধু অনভিপ্রেত নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, সম্প্রতি দৌলতপুরে ড্রেজার বাণিজ্য এবং উপজেলা প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টার অভিযোগে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই তিনি সংবাদকর্মীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রদর্শন করতে থাকেন। প্রকাশিত সংবাদগুলোর প্রতিক্রিয়াতেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ তাদের।ঘটনার পর দৌলতপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, সংবাদকর্মীরা কোনো রাজনৈতিক দলের নির্দেশনায় নয়, বরং পেশাগত দায়িত্ব ও জনস্বার্থে কাজ করেন। সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের ভাষা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়টি আমলে নিয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি আব্দুস সালামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা সংগঠনের নজরে এসেছে।নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী এ কর্মকাণ্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সামনে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।এ বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দৌলতপুর যুবদলের সদস্য সচিবের বক্তব্য মোটেও কাম্য নয়। এটি শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য। এ কারণেই দল তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সামনে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।