আরও ১৭১ ক্রীড়াবিদ পেলেন ‘ক্রীড়া কার্ড’
দেশের ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং খেলাধুলাকে টেকসই পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া ‘ক্রীড়া কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় নতুন করে আরও ১৭১ জন ক্রীড়াবিদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে সরকার। এর ফলে দুই ধাপ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৩০০ জন খেলোয়াড় এই সুবিধার আওতায় এলেন।রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন তালিকাভুক্ত খেলোয়াড়দের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হয়।সরকার গত ৩০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচি চালু করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই খেলোয়াড়দের আর্থিক অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ছিল। অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করেও ক্যারিয়ার শেষে আর্থিক সংকটে পড়েন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় এনে খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ভাতা ও কল্যাণমূলক সুবিধা চালু করা হয়েছে।দ্বিতীয় ধাপে অন্তর্ভুক্ত সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের ৩৬ জন সদস্য। এছাড়া পুরুষ ও নারী হকি দলের ৩৬ জন খেলোয়াড়ও তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। প্রথমবারের মতো জাতীয় নারী হকি দল এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে।শুধু জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাওয়া উদীয়মান খেলোয়াড়দেরও মূল্যায়ন করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ান আঞ্চলিক জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বালক দ্বৈতে স্বর্ণজয়ী সিফাত উল্লাহ ও নাজমুল ইসলামও ক্রীড়া কার্ড পেয়েছেন।সরকার জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। নির্বাচিত খেলোয়াড়রা মাসিক এক লাখ টাকা করে ভাতা পাবেন। তবে এই সুবিধা স্থায়ী নয়। মাঠের পারফরম্যান্স, শৃঙ্খলা, ফিটনেস ও সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতি চার মাস অন্তর তালিকা হালনাগাদ করা হবে।অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলাকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। কার্ডধারী খেলোয়াড়দের বিশেষ বীমা সুবিধার আওতায় আনা হবে। খেলার সময় কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে যেকোনো দুর্ঘটনা বা ইনজুরির ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা পাবেন।তিনি আরও বলেন, পারফরম্যান্স ধরে রাখতে নিয়মিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু থাকবে। এতে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং যোগ্য খেলোয়াড়রাই সুবিধা পাবেন। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময় পরপর তালিকা পুনর্নবীকরণ করা হবে।শিক্ষা খাতেও খেলাধুলার গুরুত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের বাধ্যতামূলক অংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাধারণ বিষয়ের পাশাপাশি খেলাধুলাতেও উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয় বিবেচনায় থাকবে।তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগে অভিজ্ঞ সাবেক খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।দ্বিতীয় ধাপে ক্রীড়া কার্ড পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে ফুটবল ৩৬, হকি ৩৬, ভলিবল ১৪, দাবা ১১, আর্চারি ১১, ভারোত্তোলন ১০, হ্যান্ডবল ১০, জিমন্যাস্টিকস ৯, সাঁতার ৬, টেবিল টেনিস ৫, শুটিং ৫, সাইক্লিং ৪, উশু ৪, জুডো ৩, কিকবক্সিং ২, টেনিস ২, বডি বিল্ডিং ২ এবং ট্রায়াথলন ১ জন রয়েছেন।সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দেশের ক্রীড়াবিদরা আরও মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করতে পারবেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য বাড়াতে সহায়ক হবে।#আর