ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, কৃষি ও কৃষকই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তিনি দাবি করেন, কৃষিকে কেন্দ্র করেই বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে এবং কৃষকবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন কাঠামোতে কৃষকের ভূমিকা অপরিহার্য। তার ভাষায়, কৃষি খাতকে শক্তিশালী না করা গেলে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।মন্ত্রী বলেন, মোগল আমলে কৃষকদের ফসল উৎপাদন ও খাজনা আদায়ের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা থেকেই বাংলা সনের প্রবর্তন হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে সরকার এ বছর পহেলা বৈশাখকে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের দিন হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, কৃষকদের ডিজিটাল ডাটাবেইস ও আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমিয়ে কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে, যা দেশে গণতান্ত্রিক চর্চার ইতিবাচক প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলেন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও দেশকে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যেই কাজ চলছে। সরকার নতুন উদ্দীপনায় দেশ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন সরকার, নতুন গণতন্ত্র এবং নতুন বছরের সমন্বয়ে এবারের বৈশাখ ভিন্নমাত্রা পেয়েছে।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের পহেলা বৈশাখে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য, যা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।আয়োজকরা জানান, আনন্দ র‌্যালিতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।#আরএ

কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী