গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘাম ও শরীর থেকে তরল ক্ষয়ের কারণে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সময় অনেকেই প্রস্রাবের রঙে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় কিডনির স্বাস্থ্য নিয়ে। এ বিষয়ে নেফ্রোলজি ও কিডনি প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ ডা. অনুপম রায় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।তিনি জানান, গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে, যা কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তবে প্রস্রাবের রং পরিবর্তন সবসময় গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার ইঙ্গিত হতে পারে।কিডনি সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত তরল রাখা জরুরি। শুধু পানি নয়, শসা ও তরমুজের মতো জলীয় উপাদানসমৃদ্ধ ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।লবণ কম খাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন এই চিকিৎসক। তার মতে, অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়িয়ে কিডনিতে পাথরসহ বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলা উচিত।ব্যায়ামের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন বলে তিনি জানান। গরমে অতিরিক্ত ঘাম হয় এমন সময়ে ব্যায়াম না করে সকাল বা সন্ধ্যায় শরীরচর্চা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ব্যথানাশক ওষুধ যেমন আইবুপ্রোফেন ও ন্যাপ্রোক্সেন অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে গ্রহণ করলে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে পানিশূন্য অবস্থায় এসব ওষুধ গ্রহণ আরও বিপজ্জনক হতে পারে।প্রস্রাবের রং প্রসঙ্গে তিনি জানান, হালকা রঙের প্রস্রাব সাধারণত পর্যাপ্ত পানির ইঙ্গিত দেয়, আর গাঢ় রঙের প্রস্রাব পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় এ ধরনের পরিবর্তন থাকলে বা সন্দেহজনক কিছু দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।#আর ইউ এস