ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ওপেক ও ওপেক প্লাস ছাড়ছে আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ১ মে থেকে বিশ্বের প্রভাবশালী তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়াবে তারা। দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক তেল উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই জোট থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তেল উৎপাদন নীতি, বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি কৌশল নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারের দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে উৎপাদন ব্যবস্থায় অধিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করা হয়।সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওপেক ও ওপেক প্লাসের উৎপাদন কোটা এবং সমন্বিত নীতির বাইরে গিয়ে আমিরাত নিজস্ব অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার অনুযায়ী তেল উৎপাদন বাড়াতে বা কমাতে চায়। বর্তমানে দেশটি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বড় বিনিয়োগ করছে। সেই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন বলেও মনে করছে আবুধাবি।বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে ওপেকভুক্ত কয়েকটি দেশের সঙ্গে উৎপাদন কোটা নিয়ে আমিরাতের মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও নির্ধারিত সীমার কারণে প্রত্যাশিত মাত্রায় রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে জোট থেকে বেরিয়ে গিয়ে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সরাসরি উৎপাদন বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারে দেশটি।এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূরাজনৈতিক কারণও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।আমিরাত জানিয়েছে, বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনায় ধাপে ধাপে তেল উৎপাদন বাড়ানো হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়তে পারে, যা তেলের দামে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে একই সময়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বা সরবরাহ ব্যাহত হলে দাম আবারও বাড়তে পারে। ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।ওপেক জোট দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাজ করে আসছে। পরে রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি উৎপাদক দেশ যুক্ত হয়ে ওপেক প্লাস গঠিত হয়। বৈশ্বিক তেলের দামে ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে এই জোটের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।এমন প্রেক্ষাপটে আমিরাতের সরে দাঁড়ানো শুধু প্রতীকী সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভবিষ্যতে অন্য উৎপাদক দেশগুলোর অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা। যদি আরও দেশ নিজস্ব উৎপাদন নীতিতে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে ওপেক প্লাসের প্রভাব কমে যেতে পারে।বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে এ ঘোষণার প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিনিয়োগকারী, জ্বালানি কোম্পানি এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলো এখন আমিরাতের পরবর্তী উৎপাদন পরিকল্পনা এবং ওপেক জোটের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওপেক ও ওপেক প্লাস ছাড়ছে আমিরাত