জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ায় ১ হাজার কোটি ডলারের সহায়তা দেবে জাপান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে জাপান। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।জাপান সরকার জানিয়েছে, এই সহায়তার মূল লক্ষ্য হলো এশিয়ার দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সংগ্রহে সক্ষম করে তোলা, সাপ্লাই চেইন সচল রাখা এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি করা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই অঞ্চলের দেশগুলোকে স্থিতিশীল রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জ্বালানি পরিবহন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রণালি বিশ্ব তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এর অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ওপর। এই অঞ্চলের দেশগুলো তাদের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে থাকে, ফলে সরবরাহ সংকট এখন বাস্তব চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনলাইনে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন সহযোগিতা কাঠামোর ঘোষণা দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, জাপান এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি।জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘোষিত ১০ বিলিয়ন ডলারের এই সহায়তা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রায় এক বছরের অপরিশোধিত তেল আমদানির সমপরিমাণ। এই উদ্যোগকে এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।বৈঠকে অংশ নেয় ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ একাধিক দেশ। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা বাড়ার এই সময়ে জাপানের এ ধরনের সহায়তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।প্রকল্পটির অর্থায়নে জাপানের একাধিক রাষ্ট্র-সমর্থিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (JBIC) এবং নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনসুরেন্স (NEXI)। পাশাপাশি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA) এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)–ও অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে বলে জানানো হয়েছে।জাপানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৃহৎ সহায়তা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা হবে।বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং এশিয়ায় জাপানের কৌশলগত অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার একটি পদক্ষেপ। মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক জোটবদ্ধতা ও সমন্বিত জ্বালানি নীতি গঠনের দিকেও এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান উপাদান হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে জাপানের এই ১ হাজার কোটি ডলারের সহায়তা এশিয়ার দেশগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।