একনেকে ৬ নতুনসহ ১৫ প্রকল্প অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৬টি নতুন প্রকল্পসহ মোট ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রোববার রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।তিনি বলেন, আজকের সভার এজেন্ডায় মোট ১৭টি প্রকল্প উত্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৬টি নতুন প্রকল্প, ৭টি সংশোধিত প্রকল্প এবং ৪টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন ছিল। কয়েকটি প্রকল্পে বিশেষ শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয়, সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।সভা শেষে জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন। জনগণের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেছেন, প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক হতে হবে এবং প্রকল্পটি বাস্তবিক অর্থে প্রয়োজনীয় কি না, তা যাচাই করতে হবে।তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি কী সুফল পাবে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী জানান, আগে অনুমোদিত এবং বর্তমানে চলমান বেশ কিছু প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক প্রকল্প এমন পর্যায়ে রয়েছে, যেগুলোর বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে। ফলে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিয়ে অর্থ সাশ্রয়ের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম না নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায় এবং জনগণ সময়মতো সুফল থেকে বঞ্চিত হয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এ কারণে কেন দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে, কেন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যাচ্ছে না—তা গভীরভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।জোনায়েদ সাকি বলেন, সময়মতো প্রকল্প শেষ করতে না পারলে একদিকে সরকারের ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে মানুষের প্রত্যাশিত সেবা পেতে বিলম্ব হয়। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়বদ্ধতা ও তদারকি আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ একনেকের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রকল্পের যৌক্তিকতা যাচাই এবং সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে। একই সঙ্গে জনগণের অর্থের কার্যকর ব্যবহারও নিশ্চিত হবে।#আর