ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন। দেশটির কর্তৃপক্ষ ইরানের প্রতি সমর্থন বা সহানুভূতি প্রকাশের অভিযোগে ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা বাহরাইন নিউজ এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করে।সরকারি সূত্রের বরাতে জানানো হয়, যেসব ব্যক্তি ইরানের “শত্রুতামূলক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি সহানুভূতি ও প্রশংসা” প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতি সমর্থনমূলক বক্তব্য বা সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসামূলক মন্তব্য করার বিষয়টি এই কঠোর পদক্ষেপের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর ফলে প্রাথমিকভাবে ৬৯ জন নাগরিকত্ব হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।বাহরাইন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকার যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে তারা ইরানের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন বা ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাপকভাবে প্রকাশ পায়নি।এর আগে মার্চ মাসে বাহরাইনের হাই ক্রিমিনাল কোর্ট “ইরানের শত্রুতামূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রচার” সংক্রান্ত অভিযোগে একটি মামলার শুনানি শুরু করে। তবে ওই মামলায় আসামির সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।আঞ্চলিক সূত্র অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিকত্ব বাতিলের এই পদক্ষেপ বাহরাইনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক অবস্থানের কঠোর বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নাগরিকত্ব বাতিলের মতো পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে মানবাধিকার ও আইনি বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তবে বাহরাইন সরকার এখনো এ বিষয়ে তাদের অবস্থানকে নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ইস্যুকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।