ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা: ইইউ আদালতের মুখোমুখি ৩ দেশ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংক্রান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্দেশনা সময়মতো জাতীয় আইনে বাস্তবায়ন না করায় পর্তুগাল, গ্রিস এবং মাল্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। এ কারণে দেশ তিনটিকে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) প্রকাশিত ইইউর নিয়মিত লঙ্ঘন (ইনফ্রিঞ্জমেন্ট) প্যাকেজে এই সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়।ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই Directive 2023/2413 নামে নতুন এই নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে গত বছরের ২১ মে’র মধ্যে এটি নিজেদের জাতীয় আইনে অন্তর্ভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্তুগাল ও গ্রিস কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি এবং মাল্টাও প্রয়োজনীয় তথ্য কমিশনের কাছে সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো ইউরোপের জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও কার্বন নির্ভরতা কমানো। এতে বিদ্যুতায়ন, নবায়নযোগ্য হাইড্রোজেন ব্যবহার এবং জ্বালানি খাতের সমন্বিত রূপান্তরের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং হিটিং, কুলিং, ভবন ও পরিবহন খাতেও পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই জৈব জ্বালানি উৎপাদনের জন্য কঠোর সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও রয়েছে।ইউরোপীয় কমিশনের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য অনেকটা সহজ হবে। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ধীরগতির কারণে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্দেশনাই নয়, ইউরোপীয় কমিশন আরও কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধেও জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নে গড়িমসির অভিযোগ এনেছে। ক্রোয়েশিয়া ও পোল্যান্ডকে নতুন ইউরোপীয় বিদ্যুৎ বাজার নকশা সংক্রান্ত নিয়ম (Directive (EU) 2024/1711) জাতীয় আইনে অন্তর্ভুক্ত না করায় ‘যুক্তিযুক্ত মতামত’ পাঠানো হয়েছে। এই নিয়মের লক্ষ্য হলো বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো।অন্যদিকে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধেও ইউরোপীয় আদালতের রায় লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত কোম্পানি এমওএল-এর কিছু পদক্ষেপ ইইউ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছে কমিশন। এ কারণে দেশটিকেও দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে বিষয়টি ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিসে গড়াবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার সম্ভাবনাও রয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইইউর এই কঠোর অবস্থান জলবায়ু নীতির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার একটি কৌশল। তবে একই সঙ্গে এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে যেসব দেশ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে রূপান্তর প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে রয়েছে।এ পরিস্থিতিতে ইউরোপজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন কতটা দ্রুত এগোবে, তা এখন সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সক্ষমতার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা: ইইউ আদালতের মুখোমুখি ৩ দেশ