ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গোপনে অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করেছে একটি প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের শুরু থেকে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিন পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত ও জ্বালানি স্থাপনায় কয়েক ডজন বিমান হামলা চালায় আমিরাত।প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছিল। দুই দেশই ইউএই-কে গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করে বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল হরমুজ প্রণালির কৌশলগত দ্বীপ, বন্দর আব্বাস অঞ্চল এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, যার মধ্যে পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স ও তেল শোধনাগারও ছিল।এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আরব আমিরাতের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এর আগে ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব হামলাকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে অভিহিত করে এবং এর দায় ইরানের ওপর চাপায়।ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানায়, সংঘাতে আমিরাতের সক্রিয় সামরিক সম্পৃক্ততা সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি করে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের কাছে আমিরাত আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, এই হামলাগুলো আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলছে এবং বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের শেষ দিকে ইউএই ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে সরে আসে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করে। সংঘাত চলাকালে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এবং সেনা উপস্থিতিও আমিরাতে সক্রিয় ছিল বলে দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।