ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

৩৯ দেশের অভিবাসন নীতি বাতিল করল মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গৃহীত ৩৯টি দেশের ওপর আরোপিত একাধিক অভিবাসন নীতি বাতিল করেছে একটি ফেডারেল আদালত। এর ফলে এসব দেশের অভিবাসীদের রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ডসহ বৈধ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার পথ আবারও উন্মুক্ত হলো।শুক্রবার (৫ জুন) রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক জন ম্যাককনেল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস-এর (USCIS) একাধিক নীতি বাতিলের নির্দেশ দেন। এসব নীতির কারণে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশের নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন বলে আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।বিচারক তার রায়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট অভিবাসীরা আইন অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেও কেবল তাদের জন্মস্থানের কারণে আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল। আদালতের ভাষায়, এটি ছিল ‘আইনি অনিশ্চয়তার’ পরিস্থিতি, যা আবেদনকারীদের কোনো ভুলের কারণে হয়নি।রায়ে আরও বলা হয়, ইউএসসিআইএস কার্যত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে অভিবাসন আইন ও সংস্থার নিজস্ব বিধিমালার লঙ্ঘন করেছে। এর ফলে বহু আবেদন মাসের পর মাস কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ঝুলে ছিল।এই রায়কে অভিবাসী অধিকার সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা গত মার্চে ইউএসসিআইএস-এর নীতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে একটি নিরাপত্তা ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করে। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসন সীমিত করার ঘোষণা দেয় এবং বিভিন্ন দেশের ওপর ভ্রমণ ও অভিবাসন নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ করে ৩৯টি দেশে পৌঁছায়।এই তালিকায় আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা ও সিরিয়ার মতো দেশও অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রশাসনের দাবি ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এসব নীতির কারণে বহু মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছিল, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।

৩৯ দেশের অভিবাসন নীতি বাতিল করল মার্কিন আদালত