ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অর্থনীতি

একীভূতকরণের চার মাসের মধ্যেই এসআইবিএলকে আলাদা করার আবেদন

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পাঁচটি দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ থেকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল)কে আলাদা করার আবেদন করা হয়েছে। ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাংলাদেশ ব্যাংকে এ আবেদন জমা দিয়েছেন।সোমবার (২৭ এপ্রিল) জমা দেওয়া আবেদনে তিনি ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের ১৮(ক) ধারার উল্লেখ করে এসআইবিএলকে পুনরায় শেয়ার মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। বিষয়টি সামনে আসার পর ব্যাংক খাতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দেশের আর্থিক খাতে অস্থিরতা ও দুর্বল সূচকের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে এই বৃহৎ ব্যাংক জোট পরিচালনা শুরু হয়।একীভূতকরণের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, তারল্য সংকট মোকাবিলা করা এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার করা। তবে গঠন হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই এসআইবিএলকে পৃথক করার আবেদন সেই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।আবেদনকারী রেজাউল হক অতীতে এসআইবিএলের উদ্যোক্তা পরিচালক এবং সর্বশেষ বেসরকারি মালিকানাধীন পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ব্যাংকটির স্বতন্ত্র অস্তিত্ব পুনর্বহাল করা হলে এটি শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং পরিচালনায় স্বচ্ছতা বাড়াবে।অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি আইনগত ও নীতিগত দিক থেকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে, কারণ একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ছিল ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের একটি বড় কাঠামোগত পদক্ষেপ।ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আবেদন একীভূত ব্যাংকিং মডেলের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, একীভূত ব্যাংকগুলোর পুনরায় বিভাজন হলে তা পুরো রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা কমিয়ে দিতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যদি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়, তবে পৃথকীকরণের দাবি আইনি ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করা যেতে পারে।বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক আবেদনটি পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে এসআইবিএলের ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং দেশের একীভূত ব্যাংকিং নীতির দিকনির্দেশনা।

একীভূতকরণের চার মাসের মধ্যেই এসআইবিএলকে আলাদা করার আবেদন