ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কটিয়াদীতে শাহীন ক্যাডেট একাডেমি পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ‘কটিয়াদী শাহীন বৃত্তি ও ক্যাডেট একাডেমি’র পরিচালনা নিয়ে অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীর মুর্শেদ ও প্রধান শিক্ষক ইমরানা আহমেদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক অভিভাবক। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। মাসে একাধিকবার ‘স্কুল পার্টি’র নামে টাকা নেওয়া, বেশি দামে বই-খাতা কিনতে বাধ্য করা এবং বিভিন্ন ফান্ডের নামে অর্থ আদায়সহ বেশ কিছু অভিযোগ তুলেছেন তারা। এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে।এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৯ আগস্ট) এক অভিভাবক কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজের কাছে ১৭টি অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করে লিখিত আবেদন করেন।অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীর মুর্শেদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের সাফল্য ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।মীর মুর্শেদ বলেন, “আমাদের স্কুলের ঈর্ষণীয় সাফল্য এবং ক্রমাগত শিক্ষার্থী বৃদ্ধি দেখে একটি অসাধু চক্র শুরু থেকেই চক্রান্ত করে আসছে। তারা মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সামনে একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কথা রয়েছে, সম্ভবত তাদেরও এই অপপ্রচারে মদদ রয়েছে।”প্রধান শিক্ষক ইমরানা আহমেদও অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া কোনো আদালত নয় যে সেখানে কেউ কাউকে বিচার করবে। প্রান্তিক ও অবহেলিত অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল; আমরা শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করতে আসিনি।”তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রতিটি কার্যক্রম শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কারো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার না চালিয়ে সরাসরি আমাদের কার্যালয়ে এসে কথা বলার অনুরোধ জানাচ্ছি।”অভিযোগের বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো প্রশাসনিক তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কটিয়াদীতে শাহীন ক্যাডেট একাডেমি পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক