ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সদরপুর কৃষি অফিসে ৪১ পদের ২৪টিই শূন্য

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে জনবল সংকট। অনুমোদিত ৪১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৭ জন। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে উপজেলার কৃষকদের মাঠপর্যায়ে কৃষি পরামর্শ ও সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির সেবা দিতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলা কৃষি অফিসে বিসিএস কৃষি ক্যাডারের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার একটি অনুমোদিত পদ রয়েছে এবং ওই পদে কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তার একটি অনুমোদিত পদের বিপরীতেও একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার দুটি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন একজন।দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের মধ্যেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য শূন্যতা। সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার অনুমোদিত পদে বর্তমানে কোনো কর্মকর্তা নেই। উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তার একটি পদের বিপরীতে একজন কর্মরত থাকলেও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সংকট আরও বেশি। এ পদে অনুমোদিত ২৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। অর্থাৎ ১৬টি পদই শূন্য রয়েছে।কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের ফসল উৎপাদন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, রোগবালাই ও পোকামাকড় শনাক্তকরণ, প্রতিকারের পরামর্শ এবং সরকারি কৃষি প্রণোদনা ও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাঁদের সরাসরি কাজ করতে হয়। একজন কর্মকর্তাকে একাধিক ব্লকের দায়িত্ব পালন করতে হলে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনসহ এসব কার্যক্রম পরিচালনায় স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়।এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যেও রয়েছে জনবল ঘাটতি। স্প্রেয়ার মেকানিকের পদটি শূন্য রয়েছে। অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদে একজন করে কর্মরত আছেন। দাপ্তরিক ও হিসাবসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, প্রয়োজনের সময় ফসলের রোগবালাই, পোকামাকড়ের আক্রমণ কিংবা নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে পরামর্শ নিতে গিয়ে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে সমস্যা হয়। সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তাকে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকদের সেবা দিতে হওয়ায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ ও পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রেও চাপ তৈরি হচ্ছে।সদরপুরের অর্থনীতি অনেকাংশেই কৃষিনির্ভর। এ উপজেলার বিপুলসংখ্যক কৃষক সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনুমোদিত শূন্য পদগুলোতে দ্রুত কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও পদায়ন করা না হলে মাঠপর্যায়ের কৃষি সেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।কৃষকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সদরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়ন করা হলে কৃষকদের দোরগোড়ায় সময়মতো কৃষি পরামর্শ ও সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে।

সদরপুর কৃষি অফিসে ৪১ পদের ২৪টিই শূন্য