ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ও মহানবী (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বর্তমানে এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি দেশে পাল্টা আঘাত হেনেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই সংঘাতের মাত্রা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ ছাড়িয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে।বর্তমান পরিস্থিতির এই ভয়াবহতা কেবল রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ একে কিয়ামতের বা শেষ জামানার পূর্ব লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করছে। এর প্রধান কারণ হলো হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বর্ণিত কিছু সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী বা হাদিস। একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেষ জামানায় ‘খোরাসান’ থেকে কালো পতাকা বহনকারী একদল সৈন্যের আগমন ঘটবে। তারা অপরাজেয় শক্তিতে এগিয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত জেরুজালেমের ‘বায়তুল মুকাদ্দাসে’ তাদের পতাকা উত্তোলন করবে। ঐতিহাসিক ও ভূগোলবিদদের মতে, প্রাচীন খোরাসান বলতে বর্তমান ইরান, আফগানিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানের বিশাল অংশকে বোঝানো হয়।অপর এক হাদিস অনুযায়ী, খোরাসান থেকে আগত এই বিশেষ বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন ইমাম মাহাদী এবং তারা বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয় সম্পন্ন করবেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনার মাধ্যমেই সূচিত হবে ‘আল-মালহামা’ নামক সেই মহাযুদ্ধ, যা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী লড়াই হিসেবে পরিচিত। হাদিসের বর্ণনা মতে, এই যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ইমাম মাহাদীর নেতৃত্বে পৃথিবীতে পুনরায় ন্যায়ভিত্তিক ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে।ইরান ও ইসরায়েলের বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অনেক ইসলামি বিশ্লেষক ও ধর্মতাত্ত্বিকরা প্রশ্ন তুলছেন—এটিই কি সেই পূর্বাভাসিত মহাযুদ্ধের সূচনা? বিশেষ করে প্রাচীন খোরাসানের অন্তর্ভুক্ত বর্তমান ইরানের সামরিক শক্তি যখন সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে লিপ্ত, তখন সাধারণ মানুষের মনে এই কৌতূহল ও আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে। যদিও হাদিসের প্রকৃত মর্মার্থ ও সময়ের সঠিক জ্ঞান একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তাই রাখেন, তবুও বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রতিটি নাটকীয় মোড় অনেকের কাছেই হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণীর এক বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ও মহানবী (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী