জেদ্দায় হলো জিসিসি শীর্ষ সম্মেলন
সৌদি আরবের জেদ্দায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)–এর গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছয় সদস্যবিশিষ্ট এই আঞ্চলিক জোটের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান ও কৌশলগত সমন্বয় নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পায়।উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি হলো মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান—নিয়ে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক জোট। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে এই জোট কাজ করে আসছে।বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে এই সম্মেলনের গুরুত্ব অনেক বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাস নির্ভর অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যৌথ কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।তবে সম্মেলনে সব সদস্য দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর ফলে বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে কূটনৈতিক মহলে কিছুটা কৌতূহল তৈরি হয়েছে।এদিকে সম্মেলনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। সদস্য দেশগুলো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো এবং অভ্যন্তরীণ বাজারকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেয়।জিসিসি দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জোটের ভূমিকা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলছে।সম্মেলন শেষে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে জানানো হয়েছে।