জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব কী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর গোপন ভোটে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পান ৯১ ভোট। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া অধিবেশনে তিনি এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।এর মাধ্যমে ৪০ বছর পর আবারও বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পাচ্ছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির প্রধান দায়িত্ব হলো অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা সমন্বয় করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য গঠনে ভূমিকা রাখা। তিনি জাতিসংঘের প্রশাসনিক প্রধান নন; সেই দায়িত্ব পালন করেন António Guterres। সভাপতির কাজ মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিচালনা করা।প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রায় ১৬৫টি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এসব বিষয়ে বিতর্ক, আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিচালনায় সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের বাজেট এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার সামগ্রিক বাজেট সংক্রান্ত আলোচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদ কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে সেই বিষয় সাধারণ পরিষদে এলে সভাপতির নেতৃত্বে তা নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।দায়িত্ব গ্রহণের সময় খলিলুর রহমানকে বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বহুপাক্ষিক কূটনীতির সংকট, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে ধীরগতি, মানবিক সহায়তার অর্থসংকট, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের দাবি এবং ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন।সভাপতি পদে প্রার্থিতার সময় খলিলুর রহমান ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য তুলে ধরেন। এগুলো হলো—শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা; এসডিজি অর্জনের গতি বৃদ্ধি; জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষা; মানবিক সহায়তা, অভিবাসী ও শরণার্থী ইস্যু; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সসহ উদীয়মান প্রযুক্তির সুশাসন; এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার সংস্কার।
এছাড়া শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরোধমূলক কূটনীতি, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়েও কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।