হাসিনার বিষয়ে জুডিশিয়াল প্রসেসে এগোনোর ঘোষণা
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে জুডিশিয়াল প্রসেসে অগ্রসর হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। একইসঙ্গে ভারতের সঙ্গে ভিসা পুনরায় চালু, প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।সোমবার (১৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রুটিন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।হুমায়ুন কবির বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এখন জুডিশিয়াল প্রসেস অনুযায়ী অগ্রসর হবে। তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়াই ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে বলে জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক নয়। তার ভাষায়, “শেখ হাসিনা-আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে এখন অপ্রাসঙ্গিক, তাদের আর গুরুত্ব বাংলাদেশে নেই।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনা যেন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর ফলপ্রসূ হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে “পজিটিভ মাইন্ডসেট” থাকলে অগ্রগতি সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।হুমায়ুন কবির জানান, ভিসা ইস্যুতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা দ্রুত পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া বা অবস্থানরত অভিযুক্তদের আইনগত প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।সম্প্রতি ভারতের মাটিতে গ্রেপ্তার হওয়া ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান চুক্তির আওতায় আইনগতভাবে তাদের প্রত্যর্পণ করা সম্ভব।প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বিদেশ সফর নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। তবে এখনো কোনো সফর চূড়ান্ত হয়নি। সম্ভাব্য সফর সার্কভুক্ত কোনো দেশে হতে পারে, তবে বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন রয়েছে।দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তার ভাষায়, “দেশের মানুষ নির্বাচিত সরকারের পক্ষে আছে, তাই বড় গলায় কথা বলতে পারি। দেশকে বিক্রি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।”ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, কিছু সময়ের শীতলতার পর এখন সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দুই দেশের স্বার্থেই সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন।কূটনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক এসব বক্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কিছু ইস্যুতে সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে।#আরএ