ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তিন লাল কার্ডে আলোচিত উদ্বোধনী ম্যাচ, বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রেকর্ড কত?

মেক্সিকোর ঐতিহাসিক স্তাদিও আজতেকায় ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শেষ হয়েছে স্বাগতিকদের জয় দিয়ে। তবে ম্যাচের পর আলোচনার কেন্দ্রে ছিল না শুধুই মেক্সিকোর ২-০ গোলের জয়; সমানভাবে আলোচিত হয়েছে ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইয়োর প্রদর্শিত তিনটি লাল কার্ড।২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সেবার ১১ জুনের সেই লড়াই ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ঠিক ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে দেখা হয় দুই দলের। তবে এবার ফলাফল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা মেক্সিকো শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে। বলের দখল, আক্রমণের গতি এবং সুযোগ তৈরিতে দক্ষিণ আফ্রিকার তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ছিল স্বাগতিকরা। পুরো ম্যাচে ৬১ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা।নবম মিনিটেই এগিয়ে যায় মেক্সিকো। দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের একটি ভুল পাস থেকে সুযোগ তৈরি হয়। স্পেফেলো সিথোলের উদ্দেশে দেওয়া ছোট পাস মাঝপথে কেটে নেন মার্সেলো লিরা। পরে বল পৌঁছে যায় হুলিয়ান কুইনোনাসের কাছে, যিনি গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে শট নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আরও বাড়ায় মেক্সিকো। ৬৮তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন রাউল হিমেনেস। জাতীয় দলের হয়ে ১২৫তম ম্যাচে এটি ছিল তার ৪৬তম গোল, আর বিশ্বকাপে প্রথম।তবে ম্যাচটির সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে ওঠে রেফারি উইলটন সাম্পাইয়োর সিদ্ধান্তগুলো। ব্রাজিলের এই অভিজ্ঞ রেফারি ২০১৮ বিশ্বকাপে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি এবং ২০২২ বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচে প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। উদ্বোধনী ম্যাচেও কঠোর অবস্থান নেন তিনি।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রথম লাল কার্ড দেখানো হয়। মেক্সিকোর গুতিয়েরেসকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বিপজ্জনক ট্যাকল করায় দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার স্পেফেলো সিথোলে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।এরপরও দক্ষিণ আফ্রিকার খেলায় আগ্রাসী মনোভাব কমেনি। ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে মেক্সিকোর রবার্তো আলভারাদোকে পেছন থেকে আঘাত করার দায়ে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় দক্ষিণ আফ্রিকার জোয়ানকে দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখান সাম্পাইয়ো। ফলে নয়জনের দলে পরিণত হয় আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।তবে শাস্তি শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইনজুরি সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার এক খেলোয়াড়কে বেপরোয়া ট্যাকল করায় মেক্সিকোর সিজার মন্টেসও সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফলে ম্যাচ শেষ হয় মোট ১৯ জন খেলোয়াড় নিয়ে।বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ চারটি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা ঘটেছে দুটি ম্যাচে। প্রথমবার ১৯৩৮ সালে ব্রাজিল ও চেকোস্লোভাকিয়ার মধ্যকার ম্যাচে এবং পরে ২০০৬ সালে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের বহুল আলোচিত লড়াইয়ে।এদিকে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার এই ম্যাচে প্রদর্শিত তিনটি লাল কার্ড বিশ্বকাপের বিরল ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরি-ব্রাজিল, ১৯৯৮ সালে ডেনমার্ক-দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়া-ক্রোয়েশিয়া ও ইতালি-যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে তিনটি করে লাল কার্ড দেখা গিয়েছিল।সাধারণত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ উৎসবের আবহ তৈরি করে এবং নতুন গল্পের জন্ম দেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচও ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। তবে মেক্সিকোর জয় কিংবা গোলের চেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে থাকবে উইলটন সাম্পাইয়োর পকেট থেকে তিনবার লাল কার্ড বের করার সেই মুহূর্তগুলো, যা উদ্বোধনী ম্যাচকে পরিণত করেছে এক নাটকীয় সংঘর্ষে।#আত ইউ এস

তিন লাল কার্ডে আলোচিত উদ্বোধনী ম্যাচ, বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রেকর্ড কত?