ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ট্রাম্পকে ‘মহা শয়তান’ আখ্যা খামেনির

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ‘মহা শয়তান’ বলে আখ্যা দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে ইরানের কৌশলগত অবস্থান আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক বার্তায় খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সম্পদ, যা বহুবার পশ্চিমা শক্তির আগ্রাসন ও হুমকির মুখে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।খামেনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া নৌ অবরোধ ৫৫ দিনের বেশি সময় ধরে চলায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়ে থাকে, ফলে এর বন্ধ হয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।ইরানি সর্বোচ্চ নেতা তার বক্তব্যে ধর্মীয় ও আদর্শিক অবস্থানকেও সামনে আনেন। তিনি ভূরাজনৈতিক এই সংঘাতকে বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর প্রতিরোধ হিসেবে তুলে ধরেন। খামেনি বলেন, ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে ‘নিরাপদ’ করবে এবং ‘শত্রুর অপশক্তি’ নির্মূল করবে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, উপসাগরে অশান্তি সৃষ্টিকারী বিদেশি শক্তিকে ‘পানির গভীরে নিক্ষেপ করা হবে’।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে তাদের বন্দর দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।খামেনি তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বলেন, আমেরিকার তথাকথিত সামরিক ঘাঁটিগুলো নিজেদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করতে পারে না, অন্যদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তার মতে, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার মূল কারণ।এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান নতুন সামরিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এমন অস্ত্রের কথা বলা হয়েছে, যা শত্রুপক্ষকে ‘গভীরভাবে আতঙ্কিত’ করছে। সেই প্রেক্ষাপটে খামেনি আরও বলেন, ইরানের শত্রুদের শেষ পরিণতি হবে ‘এই পানির গভীরেই’।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কড়া অবস্থান মূলত আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলার কৌশলের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি এটি অভ্যন্তরীণ সমর্থন জোরদার করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন নির্ভর করছে কূটনৈতিক তৎপরতা ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর।

ট্রাম্পকে ‘মহা শয়তান’ আখ্যা খামেনির