ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মানহানি মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আমির হামজা

মানহানির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। সোমবার সকালে তিনি সশরীরে হাইকোর্টে উপস্থিত হন। তার পক্ষে দায়ের করা আগাম জামিন আবেদনের ওপর একই দিন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি মানহানি মামলায় নিম্ন আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। গ্রেপ্তার এড়াতে এবং আইনগত প্রতিকার পেতে তিনি আগাম জামিন আবেদন করেছেন।এর আগে গত ২১ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট আদালত মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলাটি দায়ের করা হয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে।মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল বাদী হয়ে ঢাকার একটি আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন। ওইদিন আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং তাকে ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় পরবর্তী শুনানিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে এক আলোচনায় মুফতি আমির হামজা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি মন্ত্রীকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেন, যা বাদীপক্ষের মতে একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীর সম্মানহানির শামিল।বাদীপক্ষ দাবি করেছে, জনসমক্ষে এমন বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত মানহানিই নয়, বরং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরিরও আশঙ্কা তৈরি করে। এ কারণেই ফৌজদারি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।অন্যদিকে আমির হামজার সমর্থকদের দাবি, তার বক্তব্যকে প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। তবে এ বিষয়ে তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।মুফতি আমির হামজা সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি ধর্মীয় বক্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত। অতীতে বিভিন্ন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।আইনজীবীরা বলছেন, আগাম জামিন আবেদনের শুনানিতে আদালত সাধারণত অভিযোগের প্রকৃতি, আসামির অবস্থান, পলাতক হওয়ার আশঙ্কা, তদন্তে সহযোগিতার সম্ভাবনা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেন। যদি আদালত জামিন মঞ্জুর করেন, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তিনি গ্রেপ্তার থেকে সুরক্ষা পাবেন। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরোয়ানা কার্যকর করতে পারবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন বর্তমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং পরে আগাম জামিন আবেদন দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বক্তব্যের দায়, রাজনৈতিক ভাষার সীমা এবং জনসমক্ষে মন্তব্যের আইনি পরিণতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।এখন নজর রয়েছে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে। আদালতের আদেশের ওপর নির্ভর করছে আমির হামজার পরবর্তী আইনগত অবস্থান এবং মামলার ভবিষ্যৎ অগ্রগতি।

মানহানি মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আমির হামজা